আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে হঠাৎ ওঠানামা দেখা গেছে। হুতিদের অবরোধ ঘোষণার কিছু সময়ের জন্য দাম বেড়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তা পুনরায় কমে আসে। এই ঘোষণার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা জানা গেছে।

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে তাৎক্ষণিক অবরোধ আরোপের কথা জানিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক অবরোধ রেখেছে। তার জবাবেই ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। টানা নবম দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি কার্যত ভেঙে পড়েছে। তবে পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও টিকে আছে বলে জানা যাচ্ছে।

হুতিদের এই ঘোষণার পেছনে ইরানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ইরান আরব সাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের কৌশলগত বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করতে হুতিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। এরই মধ্যে উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো নতুন সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।