রাজধানীর বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে এক আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ তুলে দেওয়া হয়েছে। এদিন একই মঞ্চে বহুমাত্রিক লেখক অধ্যাপক শান্তনু কায়সারের ১০ খণ্ডের রচনাবলির প্রকাশনা উৎসবও পালিত হয়। তাঁর সাহিত্যচিন্তা ও সৃষ্টিশীল উত্তরাধিকারকে ধারণ করার লক্ষ্যে প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য এবং শান্তনু কায়সার স্মৃতি পাঠাগার ও চর্চা কেন্দ্র যৌথভাবে এই পুরস্কারের প্রবর্তন করে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর ২০২৫ সালের জন্য বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এবারের পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থগুলো হলো—কবি হেমায়েত উল্লাহ ইমনের কাব্যগ্রন্থ ‘ফেনাফুল’, জুবায়ের রশীদের ডকুফিকশন ‘গালিবের মুশায়েরায়’ এবং নাট্যকার শরণ এহসানের নাটক ‘পুরনামা’। বিজয়ী প্রত্যেক লেখকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও প্রশংসাপত্র। তিনটি বইই অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ ঐতিহ্যের ব্যানারে প্রকাশিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তবে আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তিনি সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি। তার বদলে শান্তনু কায়সারকে নিয়ে ধারণ করা তার একটি ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। সেই বক্তব্যে তিনি তাঁর কৃতী ছাত্রকে মানবিক অঙ্গীকারে দায়বদ্ধ একজন লেখক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
প্রকাশকের পক্ষে ঐতিহ্যের প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান বলেন, আড়াই দশক আগে ঐতিহ্যের যাত্রা শুরুর সময় শান্তনু কায়সারের ‘বাংলা কথাসাহিত্য: ভিন্ন মাত্রা’ ও ‘ছোট্ট বন্ধুরা’—এই দুটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। এখন তাঁর সব রচনা ঐতিহ্যের মাধ্যমেই পাঠকের কাছে পৌঁছাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ঐতিহ্য তরুণ ও প্রতিভাবান সাহিত্যিকদের প্রাধান্য দিয়ে আসছে। দেশের বর্তমান প্রজন্মের বহু খ্যাতিমান কবি-লেখকের প্রথম বই প্রকাশের পেছনেও ঐতিহ্যের অবদান রয়েছে। এই পুরস্কারও সেই তারুণ্যবান্ধব উদ্যোগেরই একটি অংশ।
শান্তনু কায়সারের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন নাট্যনির্দেশক ফয়েজ জহির। তিনি বলেন, শান্তনু কায়সার ছিলেন নাটক ও সাহিত্যের মানুষ এবং একটি সুষম সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর রচনাবলি প্রকাশের মাধ্যমে ঐতিহ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে। পুরস্কার পাওয়া তিনটি গ্রন্থ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান। এরপর বিজয়ী লেখকরা তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন ‘শান্তনু কায়সার-রচনাবলি’র সম্পাদক ও শান্তনু কায়সারের কনিষ্ঠ পুত্র রাসেল রায়হান। প্রচারবিমুখ একজন গুণী লেখকের সমগ্র সৃষ্টিভান্ডার পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি ঐতিহ্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশের তরুণ লেখকদের মধ্যে এই পুরস্কার ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে, যা দেখে তাঁরা সত্যিই আনন্দিত।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহীত উল আলম বলেন, শান্তনু কায়সার ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী—প্রাবন্ধিক, গবেষক, কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর রচনা পাঠকের বোধকে জাগ্রত করে এবং চেতনাকে শাণিত করে। তাই তাঁর রচনাবলি প্রকাশ করা ঐতিহ্যের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তিনি আরও মনে করেন, ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদানের মাধ্যমে আজ যে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকরা স্বীকৃতি পেলেন, তারা অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে দেশের সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।




