ভারতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে টানা কয়েক সপ্তাহের ছাত্র আন্দোলন। তবে মন্ত্রিসভা থেকে তাঁকে সরাতে শুরুতে রাজি ছিল না নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা জেন-জি প্রজন্মের তরুণরা এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি।
সূত্রমতে, গত ২০ জুলাই প্রথমবারের মতো সিজেপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। ওই সময় পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলের ডাক দিয়েছিল সিজেপি, আর দিল্লির রাজপথে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছিল। অচলাবস্থা নিরসনের উপায় হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। কিন্তু বৈঠকে অংশ নেওয়া সিজেপির প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা তা সরাসরি নাকচ করে দেন। তারা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো কিছুই মানা হবে না।
সরকারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অপসারণ বা দপ্তর পরিবর্তন করা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। কিন্তু সিজেপির প্রতিনিধিরা তাঁদের দাবিতে অটল ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কোনো কিছুতে রাজি হলে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর সিজেপি রাজপথের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দপ্তর বদলের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দপ্তর বদলে তাঁকে মন্ত্রিসভায় রাখলে সেটা আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিরোধী দল—কেউই মানবে না। তিনি শুরু থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবিতে সরব ছিলেন। রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, 'ধর্মেন্দ্র প্রধান দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার প্রতীক। তাঁকে সরে যেতেই হবে।'
নিজের পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে 'দেশবিরোধী শক্তিগুলো' যাতে ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে জন্য তিনি পদত্যাগ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা দুই পাতার পোস্টে তিনি বলেন, 'যাতে যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ দেশবিরোধী শক্তিগুলো নিতে না পারে, যাতে দেশের ঐক্য অটুট থাকে, যাতে ভারতের একজন শিক্ষার্থীরও ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতার মধ্যে না পড়ে এবং যাতে আমাদের সন্তানেরা পড়াশোনায় সময় দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোযোগ দিতে পারে—এসব বিবেচনা করেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।'
পদত্যাগের পর সিজেপি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও মেনে নিয়েছে। ভারতে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রহ্লাদ যোশীকে নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আগে থেকে কেন্দ্রীয় ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।




