চট্টগ্রামের সিডিএ অ্যাভিনিউয়ের মুরাদপুরে শনিবার জমকালো আয়োজনে উদ্বোধন করা হয়েছে ইয়ামাহার নতুন শোরুমের। শোরুমটির মালিকানা ও পরিচালনায় রয়েছে প্রতিষ্ঠান টুয়েন্টি এইট মোটরস, যার স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক তারকা তামিম ইকবাল খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেক কেটে শোরুমের পর্দা সরান তামিম ইকবাল এবং এসিআই মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। উপস্থিত ছিলেন ইয়ামাহা ও এসিআই মোটরসের শীর্ষ কর্মকর্তারা, বাইকপ্রেমী ও ক্রেতারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সিআরবি মোড় থেকে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের সদস্যরা মোটরসাইকেল র‌্যালি বের করেন। টাইগারপাস হয়ে বিশাল বহর এসে পৌঁছায় নতুন শোরুমের সামনে। পুরো এলাকা তখন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

নতুন শোরুমটি কাচ ও ধাতব নকশায় তৈরি। ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে লাল রঙের ইয়ামাহা লোগো। মাঝখানে উঁচু গোলাকার ডিসপ্লেতে রাখা একটি স্পোর্টস বাইক। চারপাশে সারি সারি ইয়ামাহার বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল সাজানো। দেয়ালের এক পাশে ব্র্যান্ডটির বৈশ্বিক পথচলার টাইমলাইন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যপাশে রয়েছে জেনুইন অ্যাপারেলস, হেলমেট ও রাইডিং অ্যাকসেসরিজের আলাদা কর্নার। শোরুমের সঙ্গেই সংযুক্ত আধুনিক সার্ভিস জোন, যেখানে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানরা গ্রাহকদের বিক্রয়োত্তর সেবা দেবেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তামিম ইকবাল খান বলেন, ইয়ামাহা বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর মতে, এই শোরুম চালুর মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাইকপ্রেমীদের জন্য ভালো কিছু করা হয়েছে। অন্যদিকে সুব্রত রঞ্জন দাস দাবি করেন, এটি তাঁর দেখা পৃথিবীর বৃহত্তম ইয়ামাহা ডিলার শোরুম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখানে শুধু বাইকপ্রেমীরাই নয়, যে কারও মন ভালো হয়ে যাবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাইক ট্যুরে আসা রাইডারদেরও তিনি আমন্ত্রণ জানান।

উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত দর্শনার্থীদের একজন জুনায়েদ আরমান। সদরঘাট থানার বাসিন্দা এই বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, চট্টগ্রামে এত বড় পরিসরের মোটরসাইকেল শোরুম আগে দেখেননি। তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের জন্য ইয়ামাহার এফজেডএসভি৪ মডেলের বাইক কিনতে চান এবং এই শোরুম থেকেই তা কেনার পরিকল্পনা করছেন।

নতুন শোরুমে ইয়ামাহার সকল জনপ্রিয় মডেলের মোটরসাইকেল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি থাকছে রাইডিং গিয়ার, হেলমেট, অ্যাপারেলস, জেনুইন স্পেয়ার পার্টস ও ইয়ামালুব পণ্য। সার্ভিস বেগুলোতে একসঙ্গে একাধিক বাইকের সার্ভিসিংয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এই শোরুম শুধু বিক্রয়কেন্দ্র নয়, বরং চট্টগ্রামের রাইডিং সংস্কৃতির একটি নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠবে।