পরিবহন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নীতি প্রণয়নে স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আটজন সাবেক পরিবহন সচিব। তারা সিনেটর টেড ক্রুজ ও মারিয়া ক্যান্টওয়েলের কাছে একটি দ্বিদলীয় চিঠি পাঠিয়ে সারফেস ট্রান্সপোর্টেশন রি-অথরাইজেশন প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবন ও প্রমাণভিত্তিক নীতির মাধ্যমে নিরাপত্তা উন্নতির ওপর গুরুত্ব দিতে বলেছেন। তাদের মতে, 'নিরাপদ ভ্রমণ' বলার চেয়ে এখন প্রয়োজন ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পরিবহনের সিংহভাগ (৭৫ শতাংশের বেশি) সড়কপথে ট্রাকের মাধ্যমে হয়। এআই প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলে উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু নীতিনির্ধারকরা মূলত বড় ও ভারী ট্রাকের ব্যবহার সহজ করতে মনোযোগ দিচ্ছেন। অথচ বড় ট্রাকের কারণে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, রেল পরিবহন প্রায় শূন্য মৃত্যুহারের নিরাপদ মাধ্যম হলেও সম্প্রতি প্রস্তাবিত রেলওয়ে সেফটি অ্যাক্টের মাধ্যমে রেল খাতকে আরও কঠোর নিয়মের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে, স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন ট্রাককে উৎসাহিত করার পাশাপাশি মালবাহী ট্রেনে দুইজন ক্রু বাধ্যতামূলক করার নীতি বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা। রেলের নির্দিষ্ট রুটের কারণে সড়কপথে অতিরিক্ত চাপ না পড়লেও নীতিতে এই বিষয়টি প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে তারা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি ২০২২ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সমগ্র শিল্প ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করেছে। এখন ওয়াশিংটনের উচিত এই পরিবর্তনকে স্বীকার করে নিয়ে পরিবহন নীতিতেও আমূল সংস্কার আনা। সিনেটর ক্রুজ ও ক্যান্টওয়েল এবং পরিবহন সচিব শন ডাফির কাছে দাবি জানানো হয়েছে, 'নিরাপদ ভ্রমণ' বলার চেয়ে বাস্তবে নিরাপদ ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

লেখকের মতে, বর্তমান সময়ে 'নিরাপদ ভ্রমণ' বলাটা একটি অর্জন, কিন্তু এই অর্জনকে আরও বড় করতে পরিবহন খাতে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি গ্রহণ করা জরুরি। শুধু যাত্রী নয়, পণ্য পরিবহনেও এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা ও দক্ষতা উভয়ই বাড়ানো সম্ভব। তাই স্থবির নীতি পরিহার করে উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবহন ব্যবস্থাকে গতিশীল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।