১৪ আগস্ট থেকে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাচ্ছে হলিউডের নতুন ছবি ‘দ্য এন্ড অব ওক স্ট্রিট’। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সায়েন্স ফিকশন, মিস্ট্রি এবং সারভাইভাল থ্রিলার—এই তিন ঘরানার মিশেলে তৈরি হয়েছে ছবিটি। ডেভিড রবার্ট মিশেলের পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে, ইউয়ান ম্যাকগ্রেগর, মেইসি স্টেলা ও ক্রিশ্চিয়ান কনভেরিসহ অনেকে। তাঁরা একটি পরিবারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যাঁদের আশপাশে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের আবির্ভাবের মতো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে থাকে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে প্ল্যাট পরিবার। ১৯৮০-এর দশকের একটি সাধারণ শহরতলির এলাকায় তাদের বসবাস। হঠাৎ একদিন এক রহস্যময় মহাজাগতিক ঘটনা ঘটে। সেই অদ্ভুত ঘটনার পর তাদের পুরো ওক স্ট্রিট যেন পৃথিবীর স্বাভাবিক অবস্থান থেকে ছিটকে অন্য কোনো জগতে চলে যায়। তাদের বাড়ি, রাস্তা ও চারপাশের পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে যায়।
প্রথমে পরিবারটি বুঝতেই পারে না কী ঘটেছে। কিন্তু বাইরে বের হওয়ার পর তারা দেখে, পরিচিত শহরতলির বদলে সামনে বিশাল অচেনা জঙ্গল। রাস্তার শেষ প্রান্তে বিশাল খাদ। চারপাশে প্রাগৈতিহাসিক পরিবেশ, আর সবচেয়ে ভয়ংকর—ডাইনোসররা ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরপর সিনেমাটি মূলত একটি পরিবারের টিকে থাকার সংগ্রামের কাহিনিতে রূপ নেয়। খাবার, নিরাপত্তা ও সন্তানদের রক্ষা—সবকিছু মিলিয়ে তাদের চেষ্টা চলতে থাকে। তবে ডাইনোসরই তাদের একমাত্র সমস্যা নয়; অচেনা পরিবেশ এবং পরিবারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এখনো নির্মাতারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর গোপন রেখেছেন। ওক স্ট্রিট কীভাবে অন্য জগতে গেল? তারা কি সত্যিই অতীতে ফিরে গেছে? ডাইনোসরগুলো কোথা থেকে এল? পরিবারটি কি নিজেদের পৃথিবীতে ফিরতে পারবে? ট্রেলার ও প্রকাশিত তথ্য থেকে বোঝা যায়, ছবিটি শুধু ডাইনোসর থেকে পালানোর গল্প নয়; বরং রহস্যময় ওই ঘটনার কারণই মূল রহস্য।
পরিচালক ডেভিড মিশেল জানিয়েছেন, ছবির ধারণা তাঁর শৈশবের শহরতলির এলাকা থেকে অনুপ্রাণিত। মিশিগানে ছোটবেলায় হাঁটার সময় সাধারণ গলি, গ্যারেজ কিংবা রাস্তার শেষ প্রান্ত তাঁর কাছে রহস্যময় ও অন্য জগতের মতো মনে হতো। সেই অনুভূতিই সিনেমার ধারণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তিনি শুধু ডাইনোসরভিত্তিক ছবি বানাতে চাননি; বরং পরিচিত, সাধারণ পারিবারিক পরিবেশে অস্বাভাবিক ও ভয়ংকর কিছু ঢুকিয়ে দেওয়াই ছিল লক্ষ্য।
অ্যান হ্যাথাওয়ের অভিনয় নিয়ে উচ্ছ্বসিত পরিচালক। তাঁর মতে, পরিবারের নাটকীয় দৃশ্যগুলোতে হ্যাথাওয়ে অসাধারণ; তবে গল্পে রহস্য, ভয় ও বিপদ আসার পর তিনি অভিনয়কে আরও অন্য স্তরে নিয়ে গেছেন। চরিত্রের শক্তি, ভয় ও অসহায়ত্ব—সবকিছু তিনি বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বলে মনে করেন মিশেল।




