গুগল তাদের ক্লাউড ব্যাকআপ সংরক্ষণ নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই নীতিমালা অনুসারে, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলা প্রতিটি স্মার্টফোনের যাবতীয় তথ্য এখন থেকে সরাসরি ব্যবহারকারীদের গুগল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষণ করবে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে বিনা মূল্যে পাওয়া ১৫ গিগাবাইট স্টোরেজে আগের তুলনায় অনেক বেশি তথ্য জমা পড়বে। যাদের এই স্টোরেজ আগে থেকেই প্রায় পূর্ণ, তাদের জন্য এটি স্টোরেজ শেষ হওয়ার কারণ হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতির আওতায় অ্যান্ড্রয়েডের ক্লাউড ব্যাকআপের সব তথ্যই গুগল অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। এর মধ্যে রয়েছে ফোনে সংরক্ষিত বার্তা, কলের ইতিহাস, বিভিন্ন সেটিংস, ওয়ালপেপার এবং ইনস্টল করা অ্যাপের তথ্যও। গুগলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই পরিবর্তন অধিকাংশ ব্যবহারকারীর ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে না। কারণ নতুন নিয়মে প্রতিটি ফোনের ব্যাকআপ তথ্যের আকার গড়ে প্রায় ৪০ মেগাবাইট বাড়তে পারে, যা তুলনামূলকভাবে নগণ্য।

গুগলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অ্যান্ড্রয়েড ব্যাকআপের মাধ্যমে ফোনের নানা তথ্য গুগল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত হবে। এর ফলে নতুন ফোনে পুরোনো তথ্য ফিরিয়ে আনা বা ফোন পরিবর্তন করা আরও সহজ হবে। এসএমএস ও এমএমএস বার্তা, কলের ইতিহাস এবং ফোনের বিভিন্ন সেটিংসের ব্যাকআপ আলাদাভাবে চালু বা বন্ধ করার সুবিধাও থাকবে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট তথ্যের ব্যাকআপ বন্ধ রেখে স্টোরেজ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সব তথ্য অনলাইন স্টোরেজের আওতায় ছিল না। শুধুমাত্র গুগল ফটোজে থাকা ছবি, ভিডিও এবং এমএমএসের মাধ্যমে পাঠানো ছবি বা ভিডিওগুলো গুগল অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হতো। ফলে বিনা মূল্যের ১৫ গিগাবাইট স্টোরেজের ওপর খুব বেশি চাপ পড়ত না। তবে এখন নতুন নীতির কারণে এই পরিমাণ স্টোরেজ ব্যবহারকারীদের জন্য আরও দ্রুত পূর্ণ হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যাদের ফোনে প্রচুর তথ্য রয়েছে।