ইতালির রাজধানী রোমে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো নোয়াখালীর প্রবাসী কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তার ও পাঁচ বছরের কন্যা আরোয়া ইসলামের মরদেহ আজ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি কফিন এসে পৌঁছায় এবং বিকেলে তা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। কফিনগুলো বাড়িতে পৌঁছালেই স্বজন ও প্রতিবেশীদের আর্তনাদে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। বাদ মাগরিব স্থানীয় শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তাঁদের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত কামাল উদ্দিনের পিতা সিরাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কিছুদিন আগে ছেলে দেশে এসে পারিবারিক কবরস্থানটি নিজ হাতে সংস্কার করে গিয়েছিলেন। সেই কবরস্থানেই তাঁকে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে হবে — এটা কে জানত? এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন রাতে রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশীদের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় কামাল উদ্দিনের ছেলে অয়নও আহত হয়েছিল, পরে চিকিৎসা নিয়ে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। এখন তিন সদস্যকে হারিয়ে পরিবারে একমাত্র অয়নই বেঁচে আছে।

গত মঙ্গলবার রোমে নিহতদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি চক্রের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় থানা ও সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন তাঁরা। তবে সেই হুমকির সঙ্গে রোমের এই হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে সংশয় প্রকাশ করছেন পরিবারের সদস্যরা। ইতালির পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।