অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি 'মিনিস্ট্রিয়াল ডিরেকশন ১১৯' নামে একটি নতুন নীতিমালা জারি করেছে, যা দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন এবং অভিবাসী সংখ্যা কমানোর রাজনৈতিক চাপের মুখে গৃহীত এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করা (অফশোর) হাজারো দক্ষ পেশিীবীর স্বপ্নে বড় ধাক্কা লাগবে।

নতুন দিকনির্দেশনাটি ভিসা প্রক্রিয়াকরণে একটি সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার ক্রম নির্ধারণ করে দিয়েছে, যেখানে মূল সুবিধা পাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থানরত (অনশোর) আবেদনকারীরা। এই তালিকায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছেন আইন প্রয়োগকারী ও প্রতিরক্ষা খাতের পেশিীরা। তাঁরা যদি অনশোরে থাকেন তবে পাবেন প্রথম স্থান, আর অফশোরে থাকলে দ্বিতীয় স্থান। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নির্মাণ খাতের পেশিীরা। এরপর চতুর্থ স্থানে থাকছেন দেশের ভেতরে থাকা অন্য সব ভিসা আবেদনকারী। একেবারে সর্বশেষে স্থান দেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকা (অফশোর) বাকি সব আবেদনকারীকে।

এই নীতির ফলে ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক ও দক্ষ কারিগরদের দ্রুত ভিসা দেওয়ার পূর্বেকার প্রতিশ্রুটি বাতিল হয়ে গেল। অফশোর প্রার্থীদের আবেদনের নিষ্পত্তি এখন অনিশ্চিত কালের জন্য স্থগিত হতে পারে। তবে এতে একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য। যাঁরা ইতিমধ্যেই দেশটিতে আছেন এবং পড়াশোনা শেষ করে নির্দিষ্ট পেশায় কাজ শুরু করতে পারবেন বা দক্ষতা মূল্যায়ন করাতে পারবেন, তাঁদের স্থায়ী বসবাসের (পিআর) পথ আগের চেয়ে অনেক দ্রুততর হবে।
সরকারের বর্তমান নীতি পরিষ্কার: আগে অস্ট্রেলিয়ায় আসুন, কাজ খুঁজে নিন এবং তারপর স্থায়ী হওয়ার আবেদন করুন। ‘ওয়ার্কিং হলিডে’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এসে চাকরি খুঁজে অনশোরে আবেদনের রাস্তাকেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, আঞ্চলিক ব্যবসায়ী ও নিয়োগকর্তারা এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কারণ তাঁদের বিদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা বজায় রাখা হয়নি। এমপ্লয়ার-স্পনসরড ভিসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমার অভাবে অফশোর আবেদনকারীদের প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘ হবে। শিক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তরুণদের জন্য এই বার্তা স্পষ্ট যে, আবেদনের ভৌগোলিক অবস্থান এখন ভিসা প্রাপ্তির নির্ণায়ক শর্তে পরিণত হয়েছে।