স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত নির্বাহীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় উঠে আসা সাধারণ কিছু চিত্র হলো—সেবার চাহিদা বৃদ্ধি, কর্মীদের উপর চাপ এবং খরচের প্রবল চাপ। রোগীদের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে, আর ক্লিনিক্যাল স্টাফরা প্রায় সীমা ছাড়িয়ে কাজ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলো চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু জটিলতা যোগ না করেই। এই 'তিনমুখী সংকট'ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে স্বাস্থ্যখাতের আলোচনার গতিকে বদলে দিচ্ছে। আগে এআই নিয়ে অধিকাংশ আলোচনা ছিল ভবিষ্যতে কী সম্ভব হবে তা নিয়ে; এখন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপই এআইকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবে রূপান্তরিত করেছে এবং তা লভ্যাংশ দিতে শুরু করেছে।
২০২৬ সালের ফিলিপস ফিউচার হেলথ ইনডেক্স ইউ.এস. রিপোর্টে মার্কিন স্বাস্থ্যসেবায় এআই-এর এই লভ্যাংশের প্রমাণ মিলেছে। এই মূল্য শুধু কার্যক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। এআই চিকিৎসকদের সময় ফিরিয়ে দিতে, সক্ষমতা বাড়াতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে শক্তি যোগাতে এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বোঝা কমাতে সহায়তা করছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক (৪৯%) চিকিৎসক জানিয়েছেন, এআই তাদের বছরে গড়ে কমপক্ষে ১৩২ ঘণ্টা সময় বাঁচাচ্ছে, যা তিন সপ্তাহেরও বেশি কর্মঘণ্টার সমান। এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৩৬%) বলেছেন, এআই তাদের রোগী দেখার সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং সাপ্তাহিক গড়ে পাঁচজন অতিরিক্ত রোগী দেখতে পারছেন তারা। এই লাভ ক্লিনিকাল পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে। ২৭% স্বাস্থ্যপেশাজীবী জানিয়েছেন, বিগত তিন মাসে এআই তাদের কমপক্ষে তিনবার সম্ভাব্য চিকিৎসা সংক্রান্ত ত্রুটি শনাক্ত বা প্রতিরোধে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে, ৪৬% জানিয়েছেন, কাজ সংক্রান্ত ধারণা নিয়ে আলোচনার জন্য তারা জেনারেটিভ এআই-কে একজন পেশাদার 'সঙ্গী' হিসেবে ব্যবহার করেন।
হাসপাতালগুলোর প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) সঙ্গে আলাপে তাদের শীর্ষ উদ্বেগের বিষয় হলো ক্লিনিক্যাল স্টাফদের মঙ্গল। বিশেষত কোভিড-পরবর্তী সময়ে তাদের ওপর চাপ ছিল অসহনীয়। এই প্রেক্ষাপটে এআই কিছুটা স্বস্তি দিতে শুরু করেছে—৩৫% চিকিৎসক কর্মজীবনের ভারসাম্য উন্নতির কথা বলেছেন, ৩৬% মানসিক চাপ কমেছে বলে জানিয়েছেন এবং ৩২% বলেছেন তারা এখন কম অতিরিক্ত সময় কাজ করেন বা বাসায় কাজ নিয়ে যান না। এই লভ্যাংশ শুধু রোগী দেখার সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি চিকিৎসকদের রোগীর সেবায় মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের যত্ন নেওয়ার সময়ও দিচ্ছে। তবে শুধু প্রযুক্তি দিয়েই রূপান্তর ঘটে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে এআই আশপাশের ব্যবস্থার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা সেবার চাপ বোঝেন এবং এআই-এর সম্ভাবনাও দেখেন, কিন্তু এআই তখনই সর্বোচ্চ মূল্য তৈরি করে যখন এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কর্মপ্রবাহের সঙ্গে খাপ খায়, যেন আরেকটি বিচ্ছিন্ন টুল হিসেবে ব্যবহার করতে না হয়। যেমন, দ্রুত এমআরআই স্ক্যান মূল্যবান, কিন্তু যদি সেই স্ক্যান নিচের ধাপে বাধা তৈরি করে, তবে ব্যবস্থাটি শুধু চাপকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়েছে। একইভাবে, একটি নতুন অ্যালগরিদম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে, কিন্তু সেটি সঠিক সময়ে সঠিক ব্যক্তির কাছে না পৌঁছালে তার মূল্য সীমিত।
এই কাজটি সঠিকভাবে করতে হলে আরও বেশি এআই বা টুল যোগ করার প্রয়োজন নেই; বরং দায়িত্বশীল এআই প্রয়োজন—যেখানে প্রযুক্তিকে সঠিক প্রশাসন, প্রশিক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও চলমান পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কর্মপ্রবাহে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, মানুষের দক্ষতাকে সর্বাগ্রে রাখা। জরিপে ৯৩ শতাংশেরও বেশি চিকিৎসক মনে করেন, এআই অগ্রসর হওয়ার সময়ে মানুষের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। এটি উদ্ভাবনকে ধীর করার আহ্বান নয়, বরং আস্থা তৈরি করার আহ্বান যা দায়িত্বশীল মাপযোগ্যতাকে সম্ভব করে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এআই-এর প্রতিশ্রুতি এখন আর দূরের ভবিষ্যৎ নয়; এটি আজকের বাস্তবতা। আজকের সুযোগ হলো এই লাভগুলোকে সুচিন্তিতভাবে সম্প্রসারণ করা, যাতে রোগীদের সম্পূর্ণ যাত্রাপথে এসব অগ্রগতি ব্যাপক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে। যদি স্বাস্থ্যখাত এটি সঠিকভাবে করতে পারে, তাহলে এআই লভ্যাংশ কেবল একটি দক্ষতার গল্প নয়, বরং একটি যত্নের গল্প হয়ে উঠতে পারে—যেখানে থাকবে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত, শক্তিশালী দল, কম বাধা এবং আরও বেশি মানুষের জন্য আরও ভালো সেবা দেওয়ার সক্ষমতা।




