যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কুকি চেইন ক্রাম্বলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেসন ম্যাকগোয়ান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের ওপর আলোকপাত করেছেন। ২০১৭ সালে যখন এই চেইনটি যাত্রা শুরু করে, তখন এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাকগোয়ান ও সয়ার হেমসলির একটাই উদ্দেশ্য ছিল: নিখুঁত চকলেট চিপ কুকি বানানো। বর্তমানে এই উদ্যোগটি এক বিলিয়ন ডলারের অধিক বাৎসরিক রাজস্ব আয়কারী এক সাম্রাজ্যে রূপ নিয়েছে, যার অধীনে আছে প্রায় ১,১০০টা আউটলেট এবং ২৯,০০০-এর বেশি কর্মী।

তবে কোম্পানিটির সিইও জানান, এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর পথটা মোটেই মসৃণ ছিল না। প্রথম দিকে দুই কাজিন ভোরে কুকির ডো তৈরি, গভীর রাতে রান্নাঘর পরিষ্কার এবং ব্যবসাটি আগামী সপ্তাহে টিকবে কি না—তা নিয়ে সপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো দুশ্চিন্তায় কাটাতেন। এই নিরলস পরিশ্রমের দিনগুলোই তার নেতৃত্বের ধারণা গঠন করেছে এবং তিনি মনে করেন, কখন কাজ থেকে বিরতি নিতে হবে, সেটা বোঝাও ব্যবসা গঠনের কৌশল জানার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাকগোয়ান জানান, ‘আমরা রোববারে দোকান খুলি না। এটা কেবল ধর্মীয় কারণেই নয়, বরং মানসিকভাবে আবার প্রস্তুত হওয়ার জন্যও। সবাই ভাবে জীবন মানেই শুধু থেমে না থেকে এগিয়ে চলা। কিন্তু আমার কাছে সফলতা মানে শুধুই বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান তৈরি করা নয়; বরং যারা গুরুত্বপূর্ণ, তাদের সাথে অর্থবহ স্মৃতি তৈরি করাও।’ সাত সন্তানের জনক হিসেবে তিনি যখন পরিবারের সাথে থাকেন, তখন ইমেইল সরিয়ে রাখেন—ফুটবল ম্যাচের সাইডলাইন থেকে উল্লাস জানানো হোক বা টেবিলে একসাথে বসে ক্যাটানের খেলা। এই একই নিয়ম তার প্রধান নির্বাহীর ভূমিকায়ও প্রযোজ্য। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি অবস্থান পরিদর্শন অথবা কর্মচারীদের সাথে আলাপে তিনি বিভ্রান্তি এড়িয়ে পুরোপুরি মনোযোগ দেন।

জীবন ও কর্মের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য শব্দটি নিজের পছন্দ নয় বলেও মন্তব্য করেন ম্যাকগোয়ান। উল্লেখ্য, শুধু ক্রাম্বলই নয়, চিক-ফিল-এ এবং হবি লবির মতো বড় কোম্পানিগুলোও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠাতার খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস ও কর্মীদের বিশ্রামের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অনেক দিন ধরেই রোববার বন্ধ রাখে। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তা ও চার দিনের কর্মিসপ্তাহের দাবি জোরালো হওয়ায়, অবিরাম পরিশ্রমই যে সফলতার একমাত্র চাবিকাঠি—এই ধারণা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নিজের জীবনগল্প তুলে ধরে ম্যাকগোয়ান জানান, অষ্টম শ্রেণির পর তিনি স্কুল ছেড়ে দেন এবং মাত্র ১৬ বছর বয়সে একটি স্টেকহাউসের রান্নাঘর বিভাগের ব্যবস্থাপক ছিলেন। ২০০৩ সালে ইউটায় গিয়ে তিনি বন্ধুদের মেঝেতে ছয় মাস কাটান এবং নিজে থেকেই ওয়েব উন্নয়ন শেখেন। পরবর্তীকালে তিনি ব্রিগাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সামাজিক মাধ্যমসহ একাধিক প্রযুক্তি স্টার্টআপ চালু করেন এবং অ্যানসেস্ট্রিতে মোবাইল পণ্যের পরিচালক হিসেবে কাজ করার পর হেমসলির সাথে মিলে ক্রাম্বল নির্মাণ করেন। বর্তমানে এই চেইনের অতিরিক্ত স্বাদের কুকির জন্য পরিচিতি রয়েছে, যার সাপ্তাহিক তালিকায় ফ্লামিন লাইম ক্রাঞ্চ থেকে শুরু করে রুট বিয়ার ফ্লোট ও হাওয়াইয়ান কোকোনাটের মতো নাম থাকে।

ম্যাকগোয়ানের মতে, অনেক উদীয়মান প্রতিষ্ঠাতা গ্রাহকের কোনো সমস্যার সমাধান না করে শুধু ব্যবসা তৈরির ধারণায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। অন্যদের মুখে হাসি ফোটানো ও কোনো কিছু নির্মাণের আনন্দই তাকে চালিত করে বলে তিনি উল্লেখ করেন। চলতি বছরের মে মাসে তিনি ও হেমসনি ঘোষণা করেন, তারা ধীরে ধীরে কোম্পানিটির দায়িত্ব নতুন নেতৃত্বের হাতে তুলে দিয়ে সরে আসার প্রক্রিয়ায় আছেন। এর আগে গত বছরের শুরুর দিকে ক্রাম্বলের প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার মূল্যে একটি বিক্রয়ের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান ও জিএলপি-১ ওজন নিয়ন্ত্রণ ওষুধের মতো পরিবর্তনের মধ্যে একটি মিষ্টি কোম্পানি পরিচালনা আরও জটিল হয়েছে উল্লেখ করে ম্যাকগোয়ান জেনারেল জেড প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, 'ভবিষ্যত সবসময়ই অনিশ্চিত। ভয় ছাড়া শিখতে থাকা এবং বাড়তে থাকার মানসিকতা রাখতে হবে। প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রের চেহারা বদলে দিলেও মানুষের জন্য মূল্য নির্মাণের মৌলিক ভিত্তি কখনোই বদলাবে না। কখনো কখনো মানুষের স্পর্শের গুরুত্ব ঠিকমতো বোঝানো হয় না, তাই এই বিষয়টির শক্তিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। যদি আপনি শিখতে ভীত না হন এবং অপরের জন্য কিছু তৈরি ও পৃথিবীতে মূল্য তৈরি করার তাৎপর্য বোঝেন, তাহলে আপনি নির্ভাবেই ঠিকঠাক থাকবেন।'