বিশ্বের শীর্ষ বিকল্প সম্পদ ব্যবস্থাপক ব্ল্যাকস্টোনে চাকরি পাওয়া যে অত্যন্ত কঠিন, তা স্পষ্ট হয় প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক তথ্যে। বিজনেস ইনসাইডারের মতে, ২০২৫ সালে প্রায় ৫৭ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ১৩৮ জন বিশ্লেষক পদে নিযুক্ত হন—যা ০.২ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হারের সমতুল্য। ২০২১ সালে এই হার ছিল ০.৪ শতাংশ, আর প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ফরচুনকে জানান, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন বিশ্লেষক পদের হার ০.১ শতাংশেরও কম। এই অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশেই প্রতিষ্ঠানের সহ-সভাপতি ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জোন গ্রে নতুন বিশ্লেষকদের এক সমাবেশে বলেন, সাফল্যের জন্য ওয়াল স্ট্রিটের নির্মম ভাবমূর্তির প্রয়োজন নেই; বরং মানুষের সাথে সদয় আচরণই এক ধরনের 'সুপারপাওয়ার'।

গ্রে তাঁর বক্তব্যে জানান, “আপনি যেভাবে অন্যদের সাথে ব্যবহার করেন, সেটাই আপনার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ চায় আপনি জিতুন যদি আপনি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন।” তিনি আরও বলেন, এর অর্থ এই নয় যে আপনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী হবেন না বা অন্যদের থেকে কঠোর পরিশ্রম আশা করবেন না, বরং সেটি সদয় উপায়ে করা সম্ভব। তার মতে, অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উচ্চ গ্রেড শুধু শুরুতে কাজে লাগে, কিন্তু প্রকৃত সাফল্য আসে যারা 'অতিরিক্ত যত্ন' নেয়, “যারা আরও এক পৃষ্ঠা পড়ে, আরও কিছু যাচাই করে, একটু আগে আসে।”

গ্রে নিজে ১৯৯২ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ব্ল্যাকস্টোনে যোগ দেন এবং ৩৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে আছেন। এই সময়ে তিনি অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘাত দেখেছেন, তবুও তাঁর বিশ্বাস, সহযোগিতামূলক মনোভাবই অগ্রগতি নিশ্চিত করে। শুধু ব্ল্যাকস্টোন নয়, অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “তরুণ বয়সে আপনার ক্যারিয়ারের একটি বিশাল অংশ নির্ভর করে আপনার মনোভাবের ওপর। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে তা বড় পার্থক্য তৈরি করে।” বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা মার্ক কিউবান ২০১৮ সালে ভ্যানিটি ফেয়ারকে বলেন, “ব্যবসায় সবচেয়ে কম মূল্যায়িত দক্ষতা হলো সদয় হওয়া; সদয়তাই বিক্রি করে।” আর ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসন সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, “সদয়তা ব্যবসায় সবচেয়ে কম ব্যবহৃত হাতিয়ার।”

১৯৮৫ সালে পিটার পিটারসন ও স্টিফেন শোয়ার্টজম্যান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ব্ল্যাকস্টোন বর্তমানে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করে এবং বিশ্বের বৃহত্তম বিকল্প সম্পদ ব্যবস্থাপকে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে হিলটন, স্প্যানক্স ও বাম্বল-এর মতো নামী কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলেও বর্তমানে জার্সি মাইকস সাবস-সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের পোর্টফোলিওতে রয়েছে।