বছর কয়েক পর যখন ডারউইন টেস্টের কথা ভাববেন, তখন হয়তো মনে পড়বে মেহেদী হাসান মিরাজের স্টিভ স্মিথের ক্যাচ, তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি উদযাপন বা মুমিনুল হকের চারে জেতার মুহূর্ত। কিন্তু ম্যাচটি না দেখলেও সবার আগে যে নামটি মনে আসবে, সেটি হাসান মাহমুদের। কারণ, সেই ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছিল তাঁর হাতে। দুই হাত তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই মুহূর্তটি দেখে থাকলে আজও চোখের সামনে ভাসবে।

তবে হাসানের স্বপ্ন কিন্তু বিশাল। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট নেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, টেস্টে ৪০০ থেকে ৫০০ উইকেট নিতে চান। শুনে অনেকে হেসে উড়িয়ে দিতে পারেন, কারণ বাংলাদেশের কোনো পেসারই এখন পর্যন্ত ১০০ উইকেটও স্পর্শ করতে পারেননি। এই মুহূর্তে তাঁর সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ৯৯ বনাম ১-এর মতোই ক্ষীণ, তবুও যে তিনি সত্যিই চান বলেই এমন কথা বলেছেন, তা তাঁর মনেপ্রাণে বিশ্বাস করাই যায়। কেউ হয়তো মনে করতে পারেন, এটা ঔদ্ধত্য, কিন্তু হাসানকে চেনেন এমন কারও কাছেই এই ধারণা ঠিক নয়। বরং ব্যাটসম্যানদের মন খারাপ হয়ে যাবে—এই ভেবে তিনি নিজের উদযাপনই সংযত রাখতে চান।

তাঁর ইংরেজি সাক্ষাৎকার এখন অনেকেরই পছন্দ, কিন্তু তিনি আসলে অত্যন্ত মিতভাষী। ধীরে ধীরে, অল্প কথায় নিজের মত প্রকাশ করেন। কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে তাঁর বোধ এতটাই গভীর যে, তাঁর কথা শুনতে ভালো লাগে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হাসান বড় কোনো শিরোনাম নাও দিতে পারেন, কিন্তু তাঁর কথায় খেলার নিখুঁত বিশ্লেষণ থাকে। তানজিদ, নাজমুল, মিরাজ আর হাসান—ডারউইন টেস্টের এই চার নায়কের ক্যারিয়ারের গতিপথ অনেকটা একরকম। ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা করে নেওয়া।

একটা সময় ছিল, যখন অনেকে তাঁকে শুধুই সাদা বলের বোলার হিসেবে ভাবতেন। ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক, তার এক বছর পর ওয়ানডেতে খেলা। গতিতে তখন বল করতেন, ইয়র্কারও ভালো মারতেন, তবে চোটের শঙ্কাটাও ছিল সঙ্গী। সময়ের সাথে সাথে হাসান নিজের পথ নিজেই খুঁজে নিয়েছেন। রঙিন পোশাকে অভিষেকের চার বছর পর, নানা সমীকরণ মিলিয়ে টেস্টে পা রাখেন। এখন তাঁর সব মনোযোগ লাল বলে। দুই দিকে সুইং, লেংথের কৌশল বুঝে ফেলা—সবকিছু মিলিয়ে লাল বলই তাঁর প্রিয়। চোট তাঁকে বারবার থামানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রতিবারই তিনি লাল বল হাতে ফিরে এসেছেন।

পাকিস্তান ও ভারতে ৫ উইকেট পাওয়ার পর শুরু হওয়া আলোচনা এবার অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। হাসানের গল্প কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ডারউইন টেস্টের পর একথা নিশ্চিত করে বলা যায়—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের ম্যাচসেরা হিসেবে হাসান মাহমুদের নাম স্কোরকার্ডে চিরকাল লেখা থাকবে।