প্রাকৃতিকভাবে দাঁত পুনরায় গজানোর সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে। বর্তমানে দাঁত পড়ে গেলে যে চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো অস্থায়ী ও পুরোপুরি কার্যকর নয়। কিন্তু যদি কৃত্রিম উপায়ের বদলে দাঁত নিজে থেকেই আবার গজাতে পারে, তাহলে কেমন হয়? বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭০ শতাংশই দন্তচিকিৎসকের কাছে যেতে ভয় পান। ফিলিং বা ড্রিলিংয়ের ভয়ে অনেকে নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেওয়া এড়িয়ে যান।

বায়োকেমিস্ট হ্যানেল রুওহোলা-বেকারের কাছে প্রায় প্রতিদিনই এমন মানুষের ই–মেইল আসে, যারা দাঁতের সাধারণ চিকিৎসার চেয়েও জটিল কোনো পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে রাজি। তাদের একমাত্র অনুরোধ—রুওহোলা-বেকার যেন তাদের দাঁত আবার গজাতে সাহায্য করেন। রুওহোলা-বেকার বিশ্বজুড়ে একদল বিজ্ঞানীর অংশ, যারা প্রথাগত দাঁতের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসার শক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

দাঁত হারানো ও দাঁতের ব্যথায় ভোগা লাখ লাখ মানুষের জন্য এটি নতুন আশা জাগিয়েছে। বিজ্ঞানীদের এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিলে দন্তচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার অর্থ হবে—সিনথেটিক উপাদান দিয়ে দাঁত মেরামত না করে বা তা টেনে না ফেলে বরং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু বা পুরো একটি দাঁত প্রাকৃতিকভাবে আবার গজিয়ে তোলা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর স্টেম সেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিনের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর রুওহোলা-বেকার জানান, কাজ শুরুর সময় একটি বিষয় তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল—মানুষ দাঁতের চিকিৎসায় নতুন কিছুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দাঁত পড়ে যাওয়ার সঙ্গে মানুষের বেশি অসুস্থ হওয়া ও দ্রুত মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। এটি খাওয়া, চিবানো ও হাসির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, যা সামাজিক ও মানসিক সুস্থতার ক্ষতি করতে পারে। এই ক্ষতিকর চক্র শৈশব থেকেই শুরু হতে পারে।

রুওহোলা-বেকার ও তার দল কাজ করছেন এক ধরনের 'লিভিং ফিলিং' বা জীবন্ত ফিলিং নিয়ে। আক্কেল দাঁত নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে, এনামেল তৈরিকারক বিশেষ কোষ মানুষের দাঁত পুরোপুরি ওঠার পর মারা যায়। ফলে দাঁত একবার মাড়ি ভেদ করে বাইরে চলে এলে এই কোষগুলোকে আর উদ্দীপিত করা যায় না। এর পরিবর্তে গবেষক দলটি কিছু স্টেম সেলকে রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে অ্যামেলোব্লাস্টে রূপান্তরিত করেন। ল্যাবরেটরির পাত্রে এই উপাদানগুলো একত্রিত করার পর একটি 'টুথ অর্গানয়েড' তৈরি হয়, যা নিজে থেকেই এনামেল প্রোটিন নিঃসৃত করতে সক্ষম।

রুওহোলা-বেকার এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে এই এনামেল প্রোটিনগুলো ফিলিং তৈরিতে বা ফেটে যাওয়া দাঁতের ওপর প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ল্যাবরেটরিতে পুরো একটি দাঁত তৈরি করা।