পুঁজিবাজারবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) টক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এ সময় তিনি পুঁজিবাজারের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান।
লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা কমিয়ে আনার কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। বর্তমানে এটি দুই দিনের মধ্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে বিনিয়োগকারীরা যেদিন শেয়ার কিনবেন, ঠিক পরের দিনই তা বিক্রি করতে পারবেন।
শেয়ারবাজারে মানসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের জন্য ডে নেটিং ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেন মাসুদ খান। সম্প্রতি ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব এলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সব শেয়ারে এই সুবিধা চালু করা সম্ভব নয়। আপাতত ভালো মানের ৩০টি কোম্পানির জন্য এটি চালু করার বিষয়ে ভাবছে বিএসইসি।
ভালো ও নতুন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুবিধা চালুর কথাও বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করতে পারবে। এরপর মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হবে। বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারে গুণগত মানের কোম্পানি আনতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
অনিয়ম ও দুর্নীতির শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে দেশের উচ্চ আদালতে শেয়ারবাজার সংক্রান্ত পৃথক বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বর্তমানে কারসাজির ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উচ্চ আদালতে যান। তাই এই বিষয়ে একটি আলাদা বেঞ্চের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রয়েছে।
পুঁজিবাজারে কারসাজি প্রতিরোধে এক বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর তদারকি ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান মাসুদ খান। ইতিমধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শেয়ারবাজারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজির ঘটনায় দেওয়ানি মামলার পরিবর্তে ফৌজদারি মামলা করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিএসইসি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব।




