যুক্তরাষ্ট্রের টিকটক তারকা চার্লি গ্রেস ডি'অ্যামেলিও বর্তমানে ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক। মাত্র ২২ বছর বয়সেই এই বিপুল সম্পদের অধিকারী তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকে নিজের যাত্রা শুরু করেন ডি'অ্যামেলিও। তিনিই প্রথম টিকটকার, যিনি ১০০ মিলিয়ন অনুসারী অর্জনের গৌরব অর্জন করেন। শুধু টিকটক নয়, বরং ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও ইউটিউবসহ একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব রয়েছেন এই কন্টেন্ট নির্মাতা। বর্তমানে টিকটকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি, যা এই প্ল্যাটফর্মে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পাঁচটি মাধ্যম মিলিয়ে মোট অনুসারীর সংখ্যা ২১৬ দশমিক ৫ মিলিয়নেরও বেশি।
২০১৯ সালের শেষ দিকে টিকটকে একটি ছোট নাচের ভিডিও পোস্ট করেন ডি'অ্যামেলিও। এরপর মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে তিনি প্ল্যাটফর্মটির সবচেয়ে জনপ্রিয় কন্টেন্ট নির্মাতায় পরিণত হন। ২০২০ সালের নভেম্বরে তিনিই প্রথম টিকটকার, যিনি ১০০ মিলিয়ন ফলোয়ার অর্জনের রেকর্ড গড়েন। এই অর্জনের জন্যই তাঁর নাম উঠেছিল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যের নরওয়াকে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ডি'অ্যামেলিও মাত্র তিন বছর বয়স থেকে নাচ শেখা শুরু করেন। মা হেইডি ও বাবা মার্কের উৎসাহে তিনি জ্যাজ, ট্যাপ, ব্যালে, কনটেমপোরারি ও হিপ-হপে দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ নেন। পাঁচ বছর বয়সেই নাচের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুরু করেন। প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন কিং স্কুলে। টিকটকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর অনলাইনভিত্তিক শিক্ষায় যুক্ত হন।
জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান 'ড্যান্সিং উইথ দ্য স্টারস'-এর ৩১তম আসরে (২০২২) শিরোপা জেতেন ডি'অ্যামেলিও। বিভিন্ন ফ্যাশন ও প্রসাধনী ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি নিজের নামে প্রসাধনী ও পোশাকের লাইন চালু করেছেন তিনি। একটি পানীয়ও বাজারে এনেছেন তাঁর নামে। এছাড়াও অ্যানিমেশন সিনেমা 'স্টারডগ অ্যান্ড টারবোক্যাট'-এ কণ্ঠ দিয়েছেন। তাঁর প্রথম বই 'চার্লি: দ্য আলটিমেট গাইড টু কিপিং ইট রিয়্যাল' ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে এসব কাজ থেকে তাঁর আয় প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।
ব্যক্তিগত জীবনে ডি'অ্যামেলিও ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চেজ হাডসনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্পর্ক ছিল ল্যান্ডন বার্কারের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি কোনো সম্পর্কে জড়িত নন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিতর্কেও পড়েছেন। মা-বাবার সঙ্গে অর্থসংক্রান্ত বিরোধের কারণে তিনি আলাদা হয়ে যান, যা নিয়ে গণমাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে।




