পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় জারি করা ১৫ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে দিয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। এই রায়ের মাধ্যমে পুরো ফৌজদারি কার্যক্রমই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫ সালে হুমালাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ২০০৬ ও ২০১১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থায়নের জন্য তিনি ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ ও ব্রাজিলীয় নির্মাণ কোম্পানি ওডেব্রেখটের কাছ থেকে অবৈধ তহবিল গ্রহণ করেছিলেন।

হুমালার আইনজীবী হুলিও এসপিনোজা গোয়েনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার মক্কেলের প্রাপ্ত নির্বাচনী তহবিল 'অর্থপাচার' হিসেবে গণ্য হয় না। তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে মামলাটি যে ক্রিমিনাল চেম্বারে রয়েছে, তাদের অবশ্যই কার্যক্রমের চূড়ান্ত বাতিল এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালার মুক্তির আদেশ দিতে হবে।' স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাজধানী লিমার বার্বাডিলো কারাগার থেকে হুমালার মুক্তি আশা করা হচ্ছে।

হুমালার সাজা বাতিলের ঘটনা পেরুর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরু শাসন করা হুমালা ওডেব্রেখট কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত চার পেরুভিয়ান প্রেসিডেন্টের মধ্যে প্রথম ছিলেন, যার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। এই কেলেঙ্কারিতে ব্রাজিলের ওডেব্রেখট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করে। হুমালার স্ত্রী নাদিনে এরেদিয়াকেও একই মামলায় অর্থপাচারের দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার পর নিরাপদে ব্রাজিলে চলে যাওয়ার অনুমতি পান।

হুমালা দম্পতি সর্বদা দাবি করে এসেছেন যে তারা রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার। তাদের অভিযোগ ছিল, ওডেব্রেখট থেকে ৩০ লাখ ডলার এবং হুগো শ্যাভেজ থেকে ২ লাখ ডলার অবৈধ তহবিল নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অন্যদিকে, ওডেব্রেখট কেলেঙ্কারিতে জড়িত অন্য প্রেসিডেন্টদের মধ্যে আলেহান্দ্রো তোলেদোকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে গত বছর ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অ্যালান গার্সিয়া ২০১৯ সালে আত্মহত্যা করেন যখন তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পেদ্রো পাবলো কুজিনস্কিও অভিশংসনের সম্মুখীন হয়েছিলেন, তবে তিনি সব সময় দাবি করে এসেছেন যে ওডেব্রেখটের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ বেআইনি ছিল না।

হুমালা, যিনি একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, ২০০০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির বিরুদ্ধে একটি স্বল্পস্থায়ী সামরিক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার পর জাতীয় পরিচিতি পান। তিনি প্রথমে শ্যাভেজের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। এরপর ২০১১ সালে তিনি আরও মধ্যপন্থী অবস্থান নিয়ে ব্রাজিলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার নীতির আদলে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আলবার্তো ফুজিমোরির বড় মেয়ে কেইকো ফুজিমোরিকে পরাজিত করেন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই ২০১৬ সালে আইনি জটিলতা শুরু হয়। বর্তমানে হুমালার মুক্তি নিশ্চিত হলে এটি পেরুর রাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।