এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হারের তিক্ত স্বাদ পেল রাজশাহী স্টারস। বুধবার লিকাস স্টেডিয়ামে মালয়েশিয়ার সাবাহ এফসির বিপক্ষে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটি। এই ফলাফলে গ্রুপ পর্ব থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে গোলাম রব্বানীর শিষ্যদের।
ম্যাচে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল রাজশাহী। তবে ৮৭ মিনিটে মোসাম্মৎ সুলতানার দূরপাল্লার অসাধারণ এক শটে একটি গোল শোধ করেন তারা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সেই জোরালো শটটি প্রতিপক্ষের জালে জড়ালেও তা শুধু ব্যবধানই কমাতে সক্ষম হয়; ফলাফল বদলাতে পারেনি।
জাতীয় দলের ১৬ জন খেলোয়াড় রাজশাহীর স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে তাদের পরিচিত ছন্দের কোনো ছাপ দেখা যায়নি। প্রথম ৪৫ মিনিটে রাজশাহীর খেলায় ছিল না তেমন ধার—পাসিংয়ে ভুল, আক্রমণে পরিকল্পনার অভাব। মাঝে মাঝে সাবাহর গোলমুখে পৌঁছালেও রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা। অন্যদিকে, সাবাহ ধারাবাহিক আক্রমণে রাজশাহীর রক্ষণকে চাপে রেখেছিল। প্রথমার্ধেই তারা ছয়টি শট নেয়, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। ৪২ মিনিটে গোছানো আক্রমণ থেকে এঞ্জি হেকিমা দুই খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে রাজশাহী, কিন্তু সাবাহ নিজেদের রক্ষণ আরও মজবুত করে ফেলে। ৫৫ মিনিটে মারিয়া মান্দার দূরপাল্লার শট সাবাহ গোলকিপার আসমা অনায়াসে গ্লাভসে জমান। ৬৮ মিনিটে মনিকা চাকমা তহুরার জন্য একটি লম্বা পাস বাড়িয়ে দিলেও তা লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। সময় যত গড়াতে থাকে, রাজশাহীর আক্রমণের তীব্রতাও কমতে থাকে। সেই সুযোগে ৮০ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের করে নেয় সাবাহ। বিমলা বিকে ও আফঈদা খন্দকারকে কাটিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত শট নেন হেকিমা। শটে তেমন জোর না থাকলেও রাজশাহীর গোলকিপার রুপনা চাকমা বল আটকাতে ব্যর্থ হন। পরে সুলতানার গোল রাজশাহীকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল রাজশাহী। অন্যদিকে, সাবাহ তাদের প্রথম ম্যাচে গুয়ামের রোভার্স এফসিকে ১৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল। গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আগামী ২৩ আগস্ট একই মাঠে রোভার্স এফসির মুখোমুখি হবে রাজশাহী স্টারস।
বাংলাদেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশ নিচ্ছে রাজশাহী স্টারস। প্রতিযোগিতাটির প্রথম দুই আসরে বাংলাদেশের কোনো ক্লাব খেলেনি। তৃতীয় আসরে বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এশিয়ার ক্লাব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পায় তারা।




