বিপরীত স্রোতে গিয়েও বাজি ধরেছেন বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারী বিল অ্যাকম্যান। সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের শেয়ারে নতুন অবস্থান তৈরি করেছে তার হেজ ফান্ড পার্শিং স্কয়ার ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। অ্যাকম্যানের নিজস্ব ট্রেডমার্ক শৈলীতেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে — শুক্রবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে, যা তার ফার্মের ত্রৈমাসিক ১৩এফ ফাইলিংয়ের আগে এসেছে। পোস্টে তিনি বিনিয়োগের পরিমাণ না জানালেও একে 'কোর হোল্ডিং' বা মূল বিনিয়োগ বলে উল্লেখ করেন।
পার্শিং স্কয়ার গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মাইক্রোসফটের শেয়ার জমা করা শুরু করে। ওই সময় কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয় প্রকাশের পর শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এর কারণ ছিল আশানুরূপ ক্লাউড বৃদ্ধির তুলনায় কম (১ শতাংশ) এবং পুঁজি ব্যয়ে আকস্মিক বৃদ্ধি। অ্যাকম্যান তার পোস্টে লিখেছেন, “আমরা ২১ গুণ ফরোয়ার্ড আর্নিংসের মূল্যায়নে আমাদের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি, যা বাজারের গড় মাল্টিপলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মাইক্রোসফটের গত কয়েক বছরের ট্রেডিং গড়ের তুলনায় অনেক কম।”
চলতি বছর এখন পর্যন্ত মাইক্রোসফটের শেয়ারের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে। কোম্পানিটি প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে তার অ্যাজুর ক্লাউড ব্যবসার রাজস্ব এআই ব্যয়কে সমর্থন করার মতো যথেষ্ট। সম্প্রতি এআই অংশীদারিত্ব পুনর্গঠন করে মাইক্রোসফটের একচেটিয়া বিতরণ অধিকার প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে অ্যাকম্যান এই পুনর্গঠনকে একটি মাল্টি-মডেল আর্কিটেকচারের দিকে পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের চাহিদা আরও ভালোভাবে পূরণ করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও যুক্তি দিয়েছেন যে বিনিয়োগকারীরা মাইক্রোসফটের ৩৬৫ প্রোডাক্টিভিটি স্যুটের আকর্ষণ এবং এর ‘স্টিকিনেস’ (গ্রাহক ধরে রাখার ক্ষমতা) কম মূল্যায়ন করছেন। তার মতে, এই স্যুটটি এন্টারপ্রাইজে ‘গভীরভাবে প্রোথিত’ এবং ‘প্রায় নকল করা অসম্ভব’। অ্যাকম্যান মাইক্রোসফটের ২০২৬ সালের জন্য ১৯০ বিলিয়ন ডলারের ক্যাপেক্স বাজেট নিয়েও উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি এটিকে মুনাফার হুমকি নয় বরং জে-কার্ভে বৃদ্ধি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মাইক্রোসফটের বাজার মূলধনে এখনও ওপেনএআই-এ তার ২৭ শতাংশ অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রতিফলিত হয়নি। স্টার্টআপটির সর্বশেষ ফান্ডিং রাউন্ডের মূল্যায়নে এই অংশের মূল্য প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। মাইক্রোসফট কেনার মাধ্যমে অ্যাকম্যানের এআই-সংক্রান্ত সংশয়ের সময়ে বড় টেক কোম্পানিতে বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি লিখেছেন, “২০২২ সালের শেষের দিকে চ্যাটজিপিটি প্রকাশের সময় অ্যালফাবেটের শেয়ার ব্যাপকভাবে কমে গেলে আমরা সেটি কিনেছিলাম, লিবারেশন ডে-র পরের সপ্তাহগুলিতে অ্যামাজন কিনেছিলাম এবং সম্প্রতি কোম্পানির অপ্রত্যাশিতভাবে বড় ক্যাপেক্স নির্দেশিকায় বাজারের প্রতিক্রিয়ায় মেটা কিনেছি।” এই খবরটি মূলত ফরচুন ডটকম-এ প্রকাশিত হয়েছিল।



