এসএসসি পরীক্ষার পর সাধারণত শিক্ষার্থীদের সামনে প্রশ্ন থাকে কোন কলেজে ভর্তি হবে বা কোন বিভাগে পড়বে। তবে বর্তমান সময়ে এই প্রচলিত প্রশ্নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত—আগামী পাঁচ বছরে তারা নতুন কী কী শিখবে। বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কে এম হাসান রিপন মনে করেন, ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পরীক্ষার নম্বর দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়া কঠিন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রভাবে কর্মক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন আসছে, তাই এখনকার তরুণদের জন্য 'কী পড়েছ' তার চেয়ে 'কী পারো' অর্থাৎ দক্ষতার বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দক্ষতা বলতে আমরা সাধারণত কোডিং, গ্রাফিক ডিজাইন বা কারিগরি প্রশিক্ষণকে বুঝি, তবে এর পরিধি আরও বিস্তৃত। রিপনের মতে, কথা গুছিয়ে বলা, অন্যের কথা শোনা, সময় ব্যবস্থাপনা, সমস্যা সমাধান এবং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিবর্তিত রেখে পড়াশোনার পাশাপাশি এই দক্ষতাগুলো আয়ত্ত করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের হাতে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা রয়েছে, যা কেবল বিনোদনের মাধ্যম না হয়ে নতুন ভাষা শেখা, ভিডিও এডিটিং বা কোডিংয়ের প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের নির্দেশনামূলক আচরণের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহারের দিকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা উচিত।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ৫টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন লেখক:
প্রথমত, নিজের সক্ষমতা ও আগ্রহের জায়গাটি শনাক্ত করা। অন্যের দেখাদেখি কোর্স না করে বিভিন্ন ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বা ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে বোঝা উচিত কোন কাজে নিজের আগ্রহ বেশি।
দ্বিতীয়ত, কোনো একটি ব্যবহারিক দক্ষতার পেছনে নিয়মিত সময় দেওয়া। ডিজাইন, লেখালেখি বা রোবোটিকস—যেকোনো একটি বিষয় বেছে নিয়ে চর্চার মাধ্যমে দক্ষ হয়ে ওঠা জরুরি, কারণ সার্টিফিকেটের চেয়ে বাস্তব কাজই দক্ষতার আসল পরিচয়।
তৃতীয়ত, ডিজিটাল ও এআই লিটারেসি তৈরি করা। কেবল সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নয়, বরং তথ্যের সত্যতা যাচাই, অনলাইন নিরাপত্তা এবং এআই-কে চিন্তার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে শেখা প্রয়োজন।
চতুর্থত, আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন। আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সম্পর্কে ধারণা থাকলে ভবিষ্যতে সঠিক আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
পঞ্চমত, সামাজিক দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং দলগতভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রায় সব পেশাতেই অপরিহার্য, যা বই পড়ে নয় বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে আয়ত্ত করা যায়।
লেখকের মতে, এই প্রক্রিয়ায় অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সন্তানের প্রথম ক্যারিয়ার কাউন্সেলর হতে পারেন। শুধু পড়াশোনার খোঁজ না নিয়ে সন্তান নতুন কী শিখছে বা কোন কাজে আগ্রহী, তা জানতে চাওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও বড় বাজেটের ল্যাবের অপেক্ষা না করে ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করতে হবে। পরিশেষে, যখন একজন তরুণ কর্মজীবনের শুরুতে তার ডিগ্রির পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কথা বলতে পারবে, তখনই তার প্রস্তুতি হবে পূর্ণাঙ্গ।




