বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দ ও তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দাম্পত্য জীবনের জটিলতা আপাতত কাটিয়ে উঠেছে। সুনীতা তাঁর দায়ের করা বিচ্ছেদের আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছেন। অভিনেতার ম্যানেজার শশী সিনহা এ কথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে তাঁদের মধ্যে আর কোনো বিচ্ছেদের প্রশ্ন নেই। প্রায় চার দশকের এই সম্পর্কটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কৈশোরের প্রেম থেকে শুরু করে গোপন বিয়ে, সংসার, সন্তান, তারপর দাম্পত্য কলহ এবং পরকীয়ার অভিযোগ—গোবিন্দ ও সুনীতার জীবনগল্প যেন কোনো বলিউডি ছবির চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

পরিবারের সূত্র ধরেই কৈশোরে গোবিন্দ ও সুনীতার প্রথম পরিচয়। সুনীতার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। সেই পরিচয় ক্রমে বন্ধুত্বে রূপ নেয় এবং পরে তা গভীর প্রেমে পরিণত হয়। সেই সময় গোবিন্দ ছিলেন সংগ্রামরত এক তরুণ, যিনি অভিনয় জগতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। সুনীতার পরিবার চেয়েছিল তাঁর মেয়ে চলচ্চিত্রের কারও সাথে সংসার করুক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার কাছে সেই আপত্তি টিকে থাকতে পারেনি। ১৯৮৭ সালের ১১ মার্চ তাঁদের বিয়ে হয়, যদিও সে সময় গোবিন্দ বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন। বিয়ের খবরটি তাঁরা প্রায় চার বছর গোপন রেখেছিলেন। পরবর্তীতে গোবিন্দ নিজেই স্বীকার করেন, এই গোপনীয়তা সুনীতাকে কষ্ট দিয়েছিল এবং এটি তাঁর ভুল ছিল।

নব্বইয়ের দশকে গোবিন্দ যখন বলিউডের শীর্ষ তারকাদের একজন, তখন তাঁদের সংসারে যুক্ত হয় কন্যা টিনা আহুজা এবং পুত্র যশবর্ধন আহুজা। তবে তাঁদের আরেকটি কন্যাসন্তান জন্মের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে মারা যায়, যা গোবিন্দকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবনে সুখের পাশাপাশি মতবিরোধও ছিল। কখনো সেই বিরোধ গণমাধ্যমে স্থান পেয়েছে, আবার কখনো দুজনে নিজেরাই তা সামলে নিয়েছেন।

বিচ্ছেদের গুঞ্জন নতুন নয়, তবে ২০২৫ সালে সেই গুঞ্জন বাস্তব রূপ নেয়। সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, সুনীতা গোবিন্দের বিরুদ্ধে বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। অভিযোগের মধ্যে ছিল পরকীয়া, মানসিক নির্যাতন এবং পরিত্যাগের কথা। জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টে এই আবেদন করা হয়েছিল, যা প্রকাশ্যে আসে পরের বছর। সুনীতা সম্প্রতি তরুণ অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকরের সাথে গোবিন্দের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং তাঁকে 'সুগার ড্যাডি' বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গোবিন্দ অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করেননি, তবে স্ত্রীর প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সুনীতা ভালোবাসা থেকেই অনেক কথা বলেন এবং তিনি সেগুলো মেনে নেন।

আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন সুনীতা নিয়মিত আদালতে যেতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আইনি লড়াই আর এগিয়ে যায়নি। ১৯ আগস্ট ২০২৬ সালে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টে ছেলে যশবর্ধনের সাথে সুনীতাকে দেখা যায়। এরপরই ম্যানেজার শশী সিনহা জানান, সুনীতা বিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করেছেন। তিনি একে 'খুশির খবর' হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, গোবিন্দ ও সুনীতার আর বিচ্ছেদ হচ্ছে না। তবে কেন তিনি আবেদন প্রত্যাহার করলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি সুনীতা। ফলে সম্পর্কের ভেতরের সমস্যাগুলো পুরোপুরি মিটেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ম্যানেজার শশী সিনহা অবশ্য এই বিষয়ে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো ঘরের ভেতরেই সমাধান করা ভালো ছিল।