আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে বিচারাধীন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস কাসিনেল্লি। তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, ২০২০ সালে বুয়েনস এইরেসের একটি ভাড়া বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ম্যারাডোনার শরীরে জীবন-ঝুঁকির একাধিক সতর্কসংকেত প্রকাশ পেলেও চিকিৎসকরা সেগুলো উপেক্ষা করে গেছেন।

উত্তর বুয়েনস এইরেসের সান ইসিদ্রো আদালতে গত মঙ্গলবার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাসিনেল্লি বলেন, ম্যারাডোনার হাত-পায়ের আঙুলে ফোলাভাব, পায়ের নিচের অংশে ইডিমা, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ এবং অস্বাভাবিক দ্রুত হৃৎস্পন্দনের মতো উপসর্গ তখনই বিদ্যমান ছিল। কিন্তু, কেউ সেই ফোলাভাবের কারণ অনুসন্ধান করতে যাননি। তাঁর ভাষ্যমতে, এ ধরনের লক্ষণকে উপেক্ষা করা জীবন-ঝুঁকির কারণ হতে পারত।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য কাসিনেল্লি আদালতকে আরও জানান, চিকিৎসকদের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন না আসায় স্পষ্ট বোঝা যায় তাঁরা সতর্কসংকেতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেননি। তিনি মনে করেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ম্যারাডোনাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল এবং তখন থেকেই তাঁর অবস্থার ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটতে থাকে। এই অবস্থায় চিকিৎসকরা চাইলে সতর্কবার্তা জারি করতে পারতেন বলে মন্তব্য করেন কাসিনেল্লি।

১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার মৃত্যুর আগের প্রায় ১২ ঘণ্টা তিনি তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন বলেও সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন কাসিনেল্লি। তবে, মামলার বিবাদীপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, দীর্ঘদিন কোকেন ও অ্যালকোহলে আসক্তির সঙ্গে লড়াই করা ম্যারাডোনার মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে এবং এর জন্য অন্য কাউকে দায়ী করার যৌক্তিকতা নেই।

মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর হৃদরোগ ও অ্যাকিউট পালমোনারি ইডিমায় আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। এই মৃত্যুতে সম্ভাব্য অবহেলার অভিযোগে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সাত স্বাস্থ্যকর্মীর বিচার শুরু হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের পরেও এই বিচারকাজ চলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইতালির ক্লাব নাপোলিকে দুবার লিগ শিরোপা জিতিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবে পরিণত করার কৃতিত্ব ম্যারাডোনার। আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেওয়া এই কিংবদন্তিকে ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।