ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কর্মক্ষেত্রে পরকীয়ার অভিযোগ এবং একটি ব্যর্থ বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার জেরে সমালোচনার মুখে পড়া ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে দেখতে চান ট্রাম্প। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ফিফা যদি কোনো কারণে ইনফান্তিনোকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তা হবে মারাত্মক ভুল। ইতালীয়-সুইস এই আইনজীবীকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বেই সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছে, যা অন্য যেকোনো আসরের তুলনায় চার গুণ বেশি সফল ছিল। তিনি আরও বলেন, ইনফান্তিনো চলে গেলে ফিফা আর কখনো এতটা সফল বা লাভজনক হবে না।
ফিফার শীর্ষ পদে থাকা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কথিত প্রেমিকাকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বহু আগের। বিশ্বকাপের আগে থেকেই তাঁদের মধ্যে সখ্যতা লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফাইনালেও ট্রাম্পকে দেখা গেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের অনুরোধেই স্থগিত করেছিল ফিফা, যা ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন। কানাডা ফুটবল এবং মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একাধিক ফুটবল সংস্থার সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেছে তারা। অন্যদিকে, আগামী মার্চে পুনর্নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইনফান্তিনো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফিফাও তাদের প্রেসিডেন্টের পাশে থেকে বলেছে, সংস্থাটিকে দুর্বল করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলও।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংগঠনটির নেতৃত্ব নিয়ে যখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তখন ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ফুটবল অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে আগামী মার্চের নির্বাচনের ওপর, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও আলোচনা চলছে।




