প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকট নিরসনে সরকারের তুলনায় কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে যদি আরও ভালো পরিকল্পনা থাকে, সেটি সাদরে গ্রহণ করা হবে এবং বাস্তবায়নও করা হবে। তবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কেউ অপপ্রচার চালালে তাকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে শনিবার প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে চেক বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা কোনো রাজনীতিবিদের কর্তব্য নয়; বরং জনগণকে ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করাই তার মূল দায়িত্ব। তিনি বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষ হয়ে গেছে। অতীতে স্বৈরাচারী সরকার মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি করেছে, কিন্তু বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাই হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি পরিহার করে জনমানুষের কল্যাণে পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুরের রাজনীতির যুগ এখন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগণ আর সেই ধরনের রাজনীতিকে সমর্থন করে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে তাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বলেন, পাশের লেকটি পরিষ্কার করতে ছয় মাস সময় লাগে—এসব সহজ কাজ নয়, কিন্তু সমালোচনা করা খুবই সহজ। তাই যাঁরা সমালোচনায় ব্যস্ত, তাঁদের এখনই মাঠে নেমে মানুষ ও দেশের জন্য কাজ করার এবং সঠিক কথা বলার আহ্বান জানান তিনি। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এমন কথা থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেন।
স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথে টিকে আছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁরা আজ বড় গলায় কথা বলছেন এবং মিথ্যাচার করছেন, গত ১৭ বছর ধরে মানুষ তাঁদের রাজপথে দেখতে পায়নি। দেশের বড় পত্রিকাগুলোর পাতা উল্টালেই দেখা যাবে কীভাবে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যাসহ পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে।
একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ’৭১ সালে ভুল করেছেন, ’৮৬ সালে ভুল করেছেন, ’৯৬ সালে ভুল করেছেন এবং ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উসকানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের উপকারের পরিকল্পনা থাকলে সংসদে উপস্থাপন করুন এবং জনগণের সামনে তুলে ধরুন। তারা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায় এবং প্রিয় মাতৃভূমিকে পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখতে চায়। তবে সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী।




