যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের ভেতরে সবার নজর ছিল এমবাপ্পে, বেলিংহাম বা লামিনে ইয়ামালের মতো তারকাদের ওপর। কিন্তু মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় আলোচনা ডেভিড বেকহামকে ঘিরে। ফাইনালে টম ক্রুজের পাশে তাকে দেখা গেছে। ইংল্যান্ডের প্রতিটি ম্যাচে তিনি উপস্থিত থেকে সমর্থকদের সঙ্গে ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ ও ‘হেই জুড’ গেয়েছেন। বেকহামের এমন ব্যাপক উপস্থিতির পেছনে রয়েছে তার বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা। তিনি অ্যাডিডাসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, ফিফার আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি এবং ম্যাকডোনাল্ড, হোম ডিপো, ব্যাংক অব আমেরিকার মতো প্রতিষ্ঠানের বিপণনমুখ। তবে তার এই গ্রহণযোগ্যতা নতুন করে অর্জিত নয়; এটি ২০০৭ সালের একটি সিদ্ধান্ত থেকে শুরু।
সেবছর রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে তিনি আমেরিকার অপরিচিত লিগ মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল এলএ গ্যালাক্সিতে যোগ দেন। তখন এমএলএস বিশ্ব ফুটবলের মূল স্রোতে থাকলেও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল না। বেকহামের আগমনের পর পুরো লিগের চিত্র পাল্টে যায়। গণমাধ্যমের দৃষ্টি পড়ে এই লিগের দিকে এবং আমেরিকানদের মধ্যে ফুটবল নিয়ে আগ্রহ জন্মায়।
এমএলএসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান কোর্টমানশ বেকহামের ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, তিনি লিগের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন দুবার—একবার খেলোয়াড় হিসেবে আরেকবার মালিক হিসেবে। ২০১৯ সালে বেকহাম আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্টার মায়ামি কিনলে সেই দ্বিতীয় পরিবর্তন শুরু হয়। নিজের তারকাখ্যাতি ব্যবহার করে তিনি একের পর এক খেলোয়াড় দলে টানতে থাকেন। ২০২৩ সালে তার হাত ধরেই আমেরিকায় পা রাখেন লিওনেল মেসি। মেসির জন্য বাজে চেক হাতে নিয়ে অপেক্ষায় ছিল অনেক ক্লাব, কিন্তু বেকহামের একটি ফোনকল সবকিছু অন্যভাবে সাজিয়ে দেয়।
গত তিন বছরে এমএলএসের আন্তর্জাতিক দর্শকসংখ্যা এবং আমেরিকায় সাবস্ক্রিপশন বেড়েছে। ফুটবলের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে অন্যান্য জনপ্রিয় খেলাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপ আয়োজন ছিল সেই প্রবৃদ্ধির সর্বোচ্চ সোপান। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে এবং এমএলএস কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। বেকহাম এসে সেই দান উল্টে দিয়েছেন। তার উপস্থিতি লাখো সমর্থককে মাঠমুখী করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকহামের অবদান না থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যেত। আমেরিকায় এখনো লাখো মানুষের কাছে বেকহাম মানেই যেন ফুটবলের সমার্থক। ফুটবলার হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসে পা রেখে তিনি সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত হয়েছেন। দুই দশক ধরে যার নাম এমএলএসের সঙ্গে জড়িত, তার বিশ্বকাপের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাওয়াটাই স্বাভাবিক।




