বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ফ্রান্স। সেই ম্যাচ শেষে ফরাসি অধিনায়ক কিয়লিয়ান এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে একটি বর্ণবাদী মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্যারাগুয়ের প্রধান বিরোধী দল লিবারেল পার্টির সিনেটর সেলেস্তে আমারিল্লা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমবাপ্পেকে ‘ঔপনিবেশিক ক্যামেরুনিয়ান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘সে নিজেকে ফরাসি বলে জাহির করে। সে তিক্ত, হঠাৎ বড়লোক, অহংকারী ও কুৎসিত মানুষ।’ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পে ‘মৃত্যুভয়ে ভীত’ ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই মন্তব্যের পরপরই প্যারাগুয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফরাসি জাতীয় দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে সিনেটর সেলেস্তে আমারিল্লার করা মন্তব্য আমাদের দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবমর্যাদার পরিপন্থী। এই বক্তব্য কোনোভাবেই প্যারাগুয়ে সরকার বা এ দেশের জনগণের অবস্থানের প্রতিফলন নয়।’
ফ্রান্সে এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। এমবাপ্পে নিজে এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘মিসেস সেলেস্তে আমারিল্লা, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনার পদের যোগ্য নন। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই পুরো টুর্নামেন্টে প্যারাগুয়ে আবেগ ও সম্মানের সঙ্গে লড়াই করেছে।’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও এই ‘বর্ণবাদী আক্রমণের’ নিন্দা জানান। এলিসি প্যালেসের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট এমবাপ্পে ও ফরাসি দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘সমগ্র ফুটবল–বিশ্ব ফ্রান্সের অধিনায়কের পাশে আছে। আমাদের সবাইকে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে হবে এবং একে পরাজিত করতে হবে।’ সেলেস্তে আমারিল্লার এই বর্ণবাদী মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে আরও জোরদার করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।




