ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ফুটবল লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে এবং স্পেনের লা লিগার অন্দরমহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা হলো—শিরোপা কি বার্সেলোনার কাছেই থাকবে, নাকি রিয়াল মাদ্রিদ তাদের হারানো গৌরব ফিরে পাবে। আগামী কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নতুন মৌসুমে স্প্যানিশ ফুটবলে এক নতুন উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরেছেন অভিজ্ঞ কোচ জোসে মরিনিও। গত দুটি মৌসুমে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারা রিয়ালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধারে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। তবে মরিনিওর রক্ষণাত্মক কৌশলের সঙ্গে বর্তমান লা লিগার দ্রুত গতির ফুটবল এবং রিয়ালের আক্রমণাত্মক ধার কতটা খাপ খাবে, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে গত মৌসুমে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মিলে ৪১টি এবং জুড বেলিংহাম ৬টি গোল করেছেন। মরিনিও এই বিধ্বংসী আক্রমণভাগকে কীভাবে পরিচালনা করবেন এবং আগে ভিনিসিয়ুসের বর্ণবাদ বিতর্কে জড়ানোর ফলে তাদের সম্পর্কের প্রভাব কেমন হবে, তা দেখার বিষয়। দলবদলের বাজারে রিয়াল বেশ আক্রমণাত্মক; লাইপজিগ থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে ইয়ান দিওমান্দেকে কিনে তারা মৌসুমের সবচেয়ে দামি দলবদল সম্পন্ন করেছে। এছাড়া চেলসি থেকে মার্ক কুকুরেয়া, বের্নার্দো সিলভা, ডেনজেল ডামফ্রিস ও ইব্রাহিমা কোনাতে দলে যোগ দিয়েছেন। ভিনিসিয়ুসের চুক্তিও ২০৩২ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা বেশ আত্মবিশ্বাসী। কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে তারা গত মৌসুমে রিয়ালকে ২-০ গোলে হারিয়ে তিন ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা জিতেছিল। গত চার মৌসুমের মধ্যে তিনটি লিগ জেতা বার্সা এখন লক্ষ্য করেছে টানা তিনটি শিরোপা জয়ের, যা আগে কেবল পেপ গার্দিওলা করতে পেরেছিলেন। ফ্লিকের সাথে ক্লাবের চুক্তি আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। গত মৌসুমে গড়ে প্রতি ম্যাচে ২.৫ গোল এবং ৬৮.৮ শতাংশ বল পজিশন ধরে রাখা বার্সা এবারও ফেবারিট। দলের মূল শক্তি ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল, যিনি চোটের সমস্যা সত্ত্বেও ১৬ গোল ও ১১টি অ্যাসিস্ট করে টানা দ্বিতীয়বার লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। রক্ষণভাগের শূন্যতা পূরণে নিউক্যাসল থেকে ৭ কোটি ইউরোতে অ্যান্টনি গর্ডন এবং করিম আদেইয়েমিও দলে এসেছেন। তবে রবার্ট লেভানডভস্কি শিকাগো ফায়ারে চলে যাওয়ায় সামনে একজন খাঁটি স্ট্রাইকারের অভাব রয়েছে, যা ফেরান তোরেস পূরণ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় আছে।
এই দুই জায়ান্টের বাইরে আতলেতিকো মাদ্রিদও নজর রাখছে। দিয়েগো সিমিওনের দল গত মৌসুমে চতুর্থ হয়ে ট্রফি শূন্য থেকে শেষ করেছে। আঁতোয়ান গ্রিজমান চলে গেলেও হুলিয়ান আলভারেজ দলে বহাল আছেন। মাঝমাঠ শক্তিশালী করতে ৪ কোটি ইউরো করে মর্তেন হিউলমান্দ ও লি কাং ইনকে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রিয়াল বেতিস ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে। ভিয়ারিয়ালের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ইনিগো পেরেজ। তবে সামগ্রিকভাবে শিরোপার লড়াইটি বার্সেলোনার ধারাবাহিকতা এবং মরিনিওর নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে আগামী বছরের মে মাসে।




