কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত প্রসার ঘটানো ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে যে বিপুল পরিমাণ গ্রিড অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন, তার আর্থিক বোঝা কে বহন করবে—এ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্নটি হলো, এই খরচ কি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাঁধে চাপানো হবে, নাকি সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব পড়বে?
সম্প্রতি দেশজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে এআই ডেটা সেন্টারগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এসব সুবিধা পরিচালনার জন্য প্রচুর পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন, যার ফলে স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। গ্রিড আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য যে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ দরকার, তা কোনো না কোনোভাবে পূরণ করতে হবে—এবং এখানেই মূল দ্বন্দ্ব।
প্রযুক্তি খাতের দৈত্যপ্রতিম প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তি দিচ্ছে যে, তাদের কার্যক্রম থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তাই অবকাঠামো বিনিয়োগের একটি অংশ তাদের বহন করা উচিত। তবে অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, এই খরচের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে উঠিয়ে নেওয়া হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য আলাদা ট্যারিফ কাঠামো তৈরি করা একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে, যাতে সাধারণ ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা জটিল এবং এর পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় ধরনের বাধাই রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু রাজ্য ডেটা সেন্টার অপারেটরদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে, আবার কয়েকটি রাজ্যে ভোক্তাদের বিল বাড়ার আশঙ্কায় এই খাতের সম্প্রসারণের বিরোধিতা করা হচ্ছে। কোন পক্ষের যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসে নীতিনির্ধারকরা কী সিদ্ধান্ত নেন তার ওপর।
এদিকে, এআই শিল্পের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এই সমস্যার সমাধান দ্রুত না হলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্নটি এখন আর শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং ভবিষ্যতের শক্তি নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।




