দেশজুড়ে গত পাঁচ দিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পাহাড়ধসের পাশাপাশি বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জসহ ছয়টি জেলায় লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম নগরে জলাবদ্ধতা কিছুটা কমলেও শমসের পাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে। বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ চারটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচলও আজ শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানিয়েছেন।

প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। বর্তমানে মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তার কারণে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, আজ সারাদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিকে ভারী এবং এর বেশি হলে অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে ধরা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত) সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে, ২১৪ মিলিমিটার। রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আজ দেশের প্রায় সর্বত্রই বৃষ্টি থাকবে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। খুলনার নিচু সড়কগুলোয় ইতোমধ্যে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা আরও জানিয়েছেন, আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, রোববারও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সোমবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে শুরু করলেও বৃষ্টির ধারা পুরোপুরি থামবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আগামী দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধস ও বন্যায় চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মোট ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, তাদের চোখের সামনে ঘরবাড়ি ভেসে যেতে দেখেছেন। অনেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন বলে জানিয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির এই ধারা আগামীকাল শনিবার ও রোববার পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবারের পর বৃষ্টির তীব্রতা কমতে পারে। তবে এ সময়ে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।