ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি কেবল দুই দেশের লড়াই নয়, বরং ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আশরাফ হাকিমির ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে। পিএসজির সাবেক এই সতীর্থরা আজ বোস্টনের মাঠে মুখোমুখি হবেন, যেখানে তাদের বন্ধুত্বকে সাময়িকভাবে ভুলে প্রতিপক্ষের ভূমিকা নিতে হবে। হাকিমি ডান প্রান্তে রাইটব্যাক হিসেবে খেলেন, আর এমবাপ্পে বাম দিক থেকে আক্রমণে ত্রাস সৃষ্টি করেন—তাই এই দুই বন্ধুর সরাসরি লড়াই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ।

এমন পরিস্থিতি অবশ্য প্রথমবার নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও তাঁরা প্রতিপক্ষ হয়েছিলেন। সেবার ফ্রান্স ২-০ গোলে জিতলেও ম্যাচ শেষে জার্সি বদল ও বুকে বুক মিলিয়ে উভয়েই বোঝান যে বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। এমবাপ্পে ম্যাচের আগে বলেছিলেন, 'আমাকে আমার বন্ধুকে ধ্বংস করতে হবে,' আর হাকিমির জবাব ছিল, 'তাকে আমি মারব।' শেষ পর্যন্ত কথাগুলো যুদ্ধের হুঁশিয়ারি না হয়ে নিছক রসিকতায় পরিণত হয়েছিল।

এই বন্ধুত্বের শুরু ২০২১ সালে, যখন হাকিমি পিএসজিতে যোগ দেন। ভাষার বাধা কাটিয়ে উঠতে একে অপরকে সাহায্য করেছিলেন তাঁরা। মাদ্রিদে বেড়ে ওঠা হাকিমি স্প্যানিশ ভাষায় সাবলীল হলেও ফরাসি জানতেন না, আর এমবাপ্পে কিছুটা স্প্যানিশ বলতে পারতেন। এই পারস্পরিক সহযোগিতাই তাদের সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে দেয়। হাকিমি নিজেই বলেছেন, 'বন্ধুত্ব একদমই সহজাতভাবে শুরু হয়েছিল। ফুটবলের বাইরেও আমরা খুব ভালো বন্ধু। যখনই আমার সাহায্যের প্রয়োজন হতো, ও পাশে দাঁড়াত।'

পিএসজিতে থাকাকালে একসঙ্গে ছুটি কাটানো, গান ও সিনেমার রুচির মিল—সব মিলিয়ে তাঁরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এমবাপ্পে ২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদে চলে গেলেও আত্মিক বন্ধন অটুট রয়েছে। গত বছর ডিসেম্বরে আফকন চলাকালে এমবাপ্পে হাকিমিদের খেলা দেখতে মরক্কোয় গিয়েছিলেন। হাকিমি তখন জানান, 'সে মরক্কোকে খুব পছন্দ করে। সময় পেলেই পরিবার নিয়ে আসে। মরোক্কান খাবারও তার ভীষণ প্রিয়।' একই ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া দুই তারকার বয়সের ব্যবধান মাত্র পাঁচ সপ্তাহ; এমবাপ্পে হাকিমিকে 'আমার ভাই' বলে সম্বোধন করেন।

আজকের ম্যাচে বোঝা যাবে কে কতটা জিততে আগ্রহী। তবে ফল যাই হোক, আগের বার মতো শেষ মুহূর্তে জার্সি বদলের দৃশ্য দেখা যেতে পারে, যা প্রমাণ করবে যে মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও তাদের সম্পর্কের গভীরতা অটুট। ফুটবলের এই অসাধারণ বন্ধুত্বের গল্পে আবারও নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।