গত বছর ঈদুল ফিতরে ‘উৎসব’ এবং চলতি বছরের ঈদে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ — টানা দুই মৌসুমে দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তানিম নূর। সাফল্যের এই ধারার পর তাঁর পরবর্তী প্রকল্প নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে নির্মাতা জানিয়েছেন, আগামী দুই ঈদে হয়তো তাঁর কোনো সিনেমা মুক্তি পাবে না।

এর আগে প্রথম আলোর কাছে তানিম জানিয়েছিলেন, বছরে অন্তত একটি সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছা তাঁর। সুযোগ থাকলে দুটিও বানাবেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনার বিপরীতে হঠাৎ বিরতির কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন সঠিক গল্পের অভাব। শুধু সিনেমা বানানোর তাগিদে খারাপ গল্পে কাজ করতে রাজি নন তিনি। ভালো গল্প হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি নির্মাণ থেকে দূরে থাকবেন।

তানিম বলেন, ‘আমি চাই পরিকল্পনা মেনে, সময় নিয়ে সিনেমা বানাতে। তাই দরকার ভালো গল্প। আমার সিনেমা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই জায়গাটা ধরে রাখতে চাই। মনমতো গল্প আর পরিকল্পনা না হলে কাজ করব না। আগস্ট পর্যন্ত পছন্দের কোনো গল্প পাইনি। ফলে আগামী বছর ঈদে সিনেমা মুক্তি দেওয়া এখন আর সম্ভব নয়। এমনও হতে পারে, আগামী দুই বছর আমার কোনো সিনেমা আসবে না।’

নির্মাণ থেকে বিরত থাকলেও বেকার থাকছেন না এই পরিচালক। এবার তিনি নতুন ভূমিকায় আবির্ভূত হচ্ছেন — প্রযোজক হিসেবে। তানিম জানান, নুহাশ হুমায়ূনের মুভিং বাংলাদেশ সিনেমার সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রযোজনা করার কথা আগে থেকেই ভাবছিলাম। এর মাধ্যমে তরুণ নির্মাতাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে ভালো লাগবে। নুহাশ এখন ভালো কাজ করছে। তার সিনেমার চিত্রনাট্য পড়ে আমার অসাধারণ লেগেছে, তাই এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছি। অবশ্য আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকজন প্রযোজকও এই সিনেমার সঙ্গে রয়েছেন।’

শুধু নুহাশ নন, তরুণ আরও কয়েকজন নির্মাতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তানিম। যে প্রকল্পগুলো ভালো লাগবে, সেগুলোর সঙ্গেই তিনি যুক্ত হতে চান।

প্রযোজনার পাশাপাশি এগিয়ে নিচ্ছেন বড় বাজেটের একটি চিত্রনাট্যও। যে সিনেমাটি বানাতে প্রয়োজন কয়েক কোটি টাকা। তানিম বলেন, ‘মাথায় বড় বাজেটের একটি গল্পের পরিকল্পনা আছে। তবে কতটা এগোতে পারব, নিশ্চিত নই। এর জন্য অনেক টাকা লাগবে এবং এত বড় বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। যদি সেই সুযোগ পাই, তবেই সিনেমাটি বানাব। এতে দেশের অনেক গুণী অভিনয়শিল্পী দরকার হবে। চরিত্রের সংখ্যাও অনেক বেশি, আবার প্রেক্ষাপটও বিশাল।’

তিনি আরও জানান, কাঙ্ক্ষিত প্রযোজক ও অর্থায়ন পেলে ২০২৮ সাল বা তার পরবর্তী সময়কে লক্ষ্য করে এই সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।