আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। রোববার (৯ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২-এ ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তৃতীয় দিনে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি আদালতকে বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধরার উদ্দেশ্যেই তৎকালীন সরকার জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। পরবর্তীতে ধরা পড়া শিক্ষার্থীদের জামায়াত-শিবিরের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা নিজেই একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে বলে যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই মামলার কার্যক্রম চলছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
যুক্তিতর্ক চলাকালে ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মধ্যে একটি টেলিফোন আলোচনার রেকর্ড উপস্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালের ৩১ জুলাইয়ের সেই কথোপকথনে ওবায়দুল কাদের আসাদুজ্জামান খানকে জিজ্ঞেস করেন, কখন দিচ্ছেন? উত্তরে আসাদুজ্জামান খান জানান, তিনি তখনো ফাইল প্রক্রিয়া শুরু করেননি এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি এগিয়ে নেবেন।
ওই আলোচনায় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আজকেই দিতে হবে। জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, আইনমন্ত্রী আজকের মধ্যেই করার কথা বলেছেন এবং আইন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর সেটি চূড়ান্ত হবে। তখন ওবায়দুল কাদের রাতের আগে সম্ভব হবে কিনা জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান নিশ্চিত করেন যে রাতের আগে তা সম্ভব নয়।
প্রসিকিউটর এই কথোপকথনকে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গেই সম্পর্কিত বলে দাবি করেন।
এই মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। সবাই পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।




