বৃহস্পতিবার টয়োটা কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তারা ২০২৫ ও ২০২৬ মডেলের প্রায় ৫ লাখ ৮ হাজার ক্যামরি গাড়ি ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ড্যাশবোর্ডের একটি ত্রুটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্টিয়ারিং হুইলের পেছনে অবস্থিত ৭ ইঞ্চির কম্বিনেশন মিটার—যেখানে গতি, জ্বালানির মাত্রা ও সতর্কীকরণ আলো দেখানো হয়—সেটি গাড়ি স্টার্ট করার সময় ফাঁকা হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই ত্রুটির ফলে নির্দেশক আলো (টার্ন সিগন্যাল), হ্যাজার্ড ল্যাম্প এবং সিটবেল্টের সতর্কীকরণ চাইম অকার্যকর হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টয়োটা জানিয়েছে, সমস্যাটির কারণে গাড়িগুলো ফেডারেল নিরাপত্তা মান পূরণে ব্যর্থ হতে পারে এবং ত্রুটির মাত্রার ওপর নির্ভর করে আঘাত বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
টয়োটা ডিলাররা গ্রাহকদের কোনো খরচ ছাড়াই কম্বিনেশন মিটারের সফটওয়্যার পুনরায় প্রোগ্রাম করতে পারবেন। আগামী অক্টোবরের শুরুর দিকে প্রভাবিত গ্রাহকদের চিঠির মাধ্যমে জানানো হবে। ক্যামরি মালিকরা তাদের গাড়ির ভিআইএন (Vehicle Identification Number) বা লাইসেন্স প্লেট নম্বর টয়োটার ওয়েবসাইট অথবা ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (NHTSA) ডেটাবেজে প্রবেশ করে তাদের গাড়ি এই রিকলের আওতায় পড়ে কিনা তা যাচাই করতে পারবেন।
এনএইচটিএসএ-র তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে টয়োটা এ পর্যন্ত ১৮টি রিকল জারি করেছে, যা হুন্দাইয়ের সমান এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ। এর আগে রয়েছে জেনারেল মোটরস (১৯), ক্রাইসলার (২৫) এবং ফোর্ড (৬৩)। ২০২৫ সালে ফোর্ড ১৫৩টি রিকল জারি করেছিল, যা একটি রেকর্ড, এবং এতে ১ কোটি ২৯ লাখ গাড়ি কভার হয়েছিল—যা পরবর্তী চারটি অটোমেকার (ক্রাইসলার ৫৩, ফরেস্ট রিভার ৩৬, জেনারেল মোটরস ২৮ ও ইন্টারন্যাশনাল মোটরস ২৬) এর মোট রিকলের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়।
টয়োটার ক্যামরি মডেলটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিক্রিত যাত্রীবাহী গাড়িগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে এবং কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এই মডেলটির বিক্রি সর্বকালের সর্বোচ্চ ছিল। টয়োটা অন্যান্য অটোমেকারদের মতো বড় আকারের রিকল সাধারণত জারি করে না; এ বছরের রিকলগুলোতে চারটি গাড়ি থেকে শুরু করে ৫ লাখ ৫০ হাজার গাড়ি পর্যন্ত কভার করা হয়েছে। সবশেষ বড় রিকলটি টয়োটার হাইল্যান্ডার ও হাইল্যান্ডার হাইব্রিড গাড়িগুলোর জন্য জারি করা হয়েছিল, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে দ্বিতীয় সারির সিটের ব্যাকরেস্ট লক না হওয়ার কারণে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীকে আটকে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি ছিল।




