আমেরিকা'স কাপের নতুন যুগের সূচনা করেছে আমেরিকা'স কাপ পার্টনারশিপ। এই সংস্থার প্রথম প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মার্জিও পেরেলি। তিনি প্রায় তিন দশক ব্যাংকিং ও মিডিয়া খাতে কাজ করেছেন। ১৯৯৩ সালে গোল্ডম্যান শ্যাক্সের নিউ ইয়র্ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর লন্ডন ও মিলানে কাজ করেন পেরেলি। সেখানে তিনি ১১ বছর কাটান। পরে এইচএসবিসির ইতালীয় ব্যবসা পরিচালনা করেন। এরপর স্কাই ইতালিয়ার প্রধান তাকে স্কাই স্পোর্ট ইতালিয়া পরিচালনার প্রস্তাব দিলে তিনি স্পোর্টস জগতে পা রাখেন। আট বছর সেখানে থাকার পর আমেরিকা'স কাপ পার্টনারশিপ থেকে প্রস্তাব পান।

১৭৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ডিফেন্ডারের একক নিয়ন্ত্রণের বদলে একটি শেয়ার্ড গভর্নেন্স কাঠামো গড়ে তোলা হলো। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পাঁচটি প্রতিষ্ঠাতা দল—এমিরেটস টিম নিউজিল্যান্ড, ব্রিটেনের অ্যাথেনা রেসিং, ইতালির লুনা রোসা, সুইজারল্যান্ডের টিউডর টিম আলিঙ্গি ও ফ্রান্সের কে-চ্যালেঞ্জ—মিলে এই পার্টনারশিপ গঠন করে। পেরেলিকে ওই পাঁচ দল যৌথভাবে নির্বাচিত করে। তিনি বলেন, 'আগে প্রতিটি দল শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবত। এখন তাদের পুরো প্ল্যাটফর্মের উন্নতির কথা চিন্তা করতে হবে। প্ল্যাটফর্ম বড় হলে প্রতিটি দলই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।'

২০২৭ সালের আসরটি ইতালির নেপলসে অনুষ্ঠিত হবে, যা ইতালিতে এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসর। নেপলসের সাবেক শিল্পাঞ্চল বাগনোলির পুনঃউন্নয়নের সঙ্গেও এই আয়োজন জড়িত। স্বাধীন গবেষণা সংস্থা ইউনিমপ্রেসার রিসার্চ সেন্টারের হিসেব অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক রিটার্ন প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ইউরো হবে। পরবর্তী পাঁচ থেকে দশ বছরে এই প্রভাব দাঁড়াতে পারে এক থেকে দুই বিলিয়ন ইউরো। বার্সেলোনায় ২০২৪ সালের আসরে জিডিপিতে এক বিলিয়ন ইউরোর বেশি প্রভাব পড়েছিল। পেরেলির মতে, নেপলসে প্রভাব বার্সেলোনার চেয়ে বেশি হবে। কারণ বার্সেলোনায় আগেই অলিম্পিকের মতো বড় ইভেন্ট হয়েছে, কিন্তু নেপলসের জন্য এটি প্রথম বড় আসর।

২০২৭ সালের আসরে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হবে: যে চারটি দেশ এ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া—সবাই একই আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই চতুর্থ দেশটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছিল জরুরি। কিছুদিন আগে আমেরিকান ম্যাজিকের প্রস্থান ও আরেক মার্কিন উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৭ সালে প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন দল না-ও থাকতে পারত। শেষ পর্যন্ত চেক বিলিয়নিয়ার কারেল কোমারেক ও ব্রিটিশ উদ্যোক্তা ক্রিস ওয়েলচের পৃষ্ঠপোষকতায় কেন রিডের নেতৃত্বে আমেরিকান রেসিং চ্যালেঞ্জার গঠিত হয়। পেরেলি বলেন, 'এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমেরিকা'স কাপে আমেরিকান দল না থাকলে অর্থহীন হয়ে পড়ে।'

পেরেলি ভবিষ্যতে আমেরিকা'স কাপকে আরও নিয়মিত ও পঞ্জিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, 'আমাদের জানা উচিত পরবর্তী আমেরিকা'স কাপ কখন হবে, যেমন রাইডার কাপ, ফর্মুলা ওয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্স, অলিম্পিক বা বিশ্বকাপের সময় আমরা জানি।' তিনি মোনাকো গ্র্যান্ড প্রিক্সের আদলে এই আসরকে গড়ে তুলতে চান, যেখানে দর্শকরা শুধু রেস নয় বরং এর আশেপাশের সামাজিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। 'প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পার্টি, সামাজিক আয়োজন—এসব নিয়েই আমেরিকা'স কাপকে নতুন রূপ দিতে হবে,' বলেন তিনি।

২০২৭ সালের আসরে বেশ কিছু নতুনত্ব আনা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো দুটি ফ্লিট রেস অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ সদস্যের এসি৭৫ ক্রুতে বাধ্যতামূলকভাবে একজন নারী সেলর থাকবেন। পাশাপাশি একটি ঘূর্ণায়মান 'গেস্ট রেসার' আসন থাকবে, যা তিনি লুইস হ্যামিল্টনের পাশে ফেরারিতে বসার সঙ্গে তুলনা করেছেন।