বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বুধবার সকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে সংঘটিত এই ঘটনায় অন্তত দশজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির 'অদম্য জুলাই' নামে একটি শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি একাডেমিক ভবনের নিচ তলা থেকে শুরু হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের ফটকের দিকে যাচ্ছিল। শোভাযাত্রায় বহিরাগত ব্যক্তিদের উপস্থিতির অভিযোগ তোলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনা নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা, পরে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। বেশ কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে, যার কারণে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আশিক আহমেদের অভিযোগ, ছাত্রশিবির বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে লাঠির সঙ্গে পতাকা বেঁধে শোভাযাত্রা বের করেছিল। বহিরাগতদের নিয়ে কর্মসূচি পালন না করতে অনুরোধ করলে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ছাত্রদলের ওপর হামলা চালায়। তাঁর দাবি, এতে ছাত্রদলের পাঁচ থেকে ছয়জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের শাখা সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলামের বক্তব্য, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির কর্মসূচি পালন করছিলেন। উপাচার্যের বাসভবনের ফটকের দিকে যাওয়ার পথে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করে। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। ছাত্রশিবিরের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান। বিচার চেয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান দুপুর ১২টার দিকে জানান, তিনি আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন এবং পরে বিস্তারিত বলবেন। সংঘর্ষের পর ছাত্রশিবিরের টাঙানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বরিশাল মহানগর পুলিশের সহকারী উপকমিশনার বেলাল হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় এবং সোমবার রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরপর দুই দিনে দেশের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।