চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান এবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে—পরাজয় মেনে নেওয়াই এখন একমাত্র পথ। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানকার পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে তেহরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, যা এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪.০৮ ডলার প্রতি গ্যালনে। এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে এবং বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব পড়তে পারে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও, বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কায় মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই অবস্থানকে উস্কানি হিসেবে দেখছেন। তিনি ইরানকে ‘অত্যন্ত নিকৃষ্ট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং মার্কিন নাগরিকদের জ্বালানি তেলের এই বর্ধিত মূল্য মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তার এই বক্তব্য পরিস্থিতি প্রশমনে কোনো ভূমিকা রাখছে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইরান অবশ্য বলছে, তারা আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত, তবে তার জন্য কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে। কী কী শর্ত সেটি তারা এখনও স্পষ্টভাবে জানায়নি, তবে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে—এমন বার্তাই তারা ইতোমধ্যে দিয়ে রেখেছে। এদিকে, যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন এক সংকট তৈরি করেছে।




