মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে, তেহরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক তৎপরতা কেবল মার্কিন বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিমণ্ডলেও। তেহরানের সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ও তার মিত্রদের সহযোগিতাকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই ধারাবাহিক হামলাগুলো ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক অবকাঠামোকে নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। পূর্ববর্তী রাতগুলোর মতোই, সর্বশেষ অভিযানেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ ইরানের আগ্রাসী সক্ষমতা হ্রাস এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য অপরিহার্য।
তবে ইরান এই হামলাগুলোকে 'বেআইনি আগ্রাসন' হিসেবে আখ্যায়িত করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তেহরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী সক্রিয়ভাবে মার্কিন হামলা প্রতিহত করছে এবং একইসঙ্গে আঞ্চলিক মার্কিন অবস্থানগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের পরিধি বাড়াচ্ছে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে এক ধরনের যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যা বেসামরিক জীবন ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে কারণ তেহরান এখন সরাসরি তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে আক্রমণের কৌশল নিয়েছে। এটি সংঘাতকে একটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই থেকে আঞ্চলিক সংকটে রূপান্তরিত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সংঘাত থামানোর আহ্বান জানালেও, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।



