বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে র্যাংগস গ্রুপের ফিউচার মোবিলিটি ইউনিট র্যাংগসএক্স। সম্প্রতি তারা বহুজাতিক কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশের কাছে ১৮টি ডংফেং বৈদ্যুতিক কার্গো ভ্যান হস্তান্তর করেছে। গত ৮ জুলাই র্যাংগস অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন র্যাংগস গ্রুপ ও ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সম্পূর্ণ শূন্য কার্বন নিঃসরণে সক্ষম এই যানবাহনগুলো দেশের লজিস্টিক খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। র্যাংগস গ্রুপের অটোমোটিভ বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ শাহরিয়ার আনোয়ার বলেন, ‘শুধু একটি চুক্তি সম্পাদন নয়, এটি বাংলাদেশের ইভি অগ্রযাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। ডিএইচএলের মতো বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের আস্থা অর্জন আমাদের জন্য বড় স্বীকৃতি।’
প্রতিষ্ঠানটির আইশার বাস ও ট্রাক, ডংফেং ইভি এবং পিকআপ ডিভিশনের বিজনেস হেড শাহ মোহাম্মদ রুম্মান বিন রউফ লজিস্টিক ব্যবসায় জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক কার্গো ভ্যান ব্যবহারে উভয় খরচই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এর ফলে লজিস্টিক কার্যক্রম আরও সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য হবে।’ ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিয়ারুল হক বলেন, ‘শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য অর্জনে আমরা আমাদের ফ্লিটে শতভাগ বৈদ্যুতিক কার্গো গাড়ি সংযোজন করেছি। বাংলাদেশে এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা টেকসই লজিস্টিক সেবার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে।’
উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দেশের করপোরেট ও লজিস্টিক খাতে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ব্যবহারের প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

