গতকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অভিনয়শিল্পী সংঘের কার্যনির্বাহী পর্ষদের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন ও সংগঠনটির ওয়েবসাইট উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার, যিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন অভিনেতা ও সংগঠনের উপদেষ্টা মামুনুর রশীদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শাহাদাৎ হোসেন।

সংগঠনের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম তাঁর বক্তব্যে শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে শিল্পী পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কোনো শিল্পী অতীতে কোনো রাজনৈতিক দলের সংস্পর্শে এসেছেন কি না, তা নয়, বরং তাঁর অভিনয়শিল্পী হিসেবে পরিচয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিচয়ের ভিত্তিতে সকল শিল্পীর প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিল্পীরা যদি কখনো কারাগারে থাকেন, তাহলে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করা উচিত নয়; বরং পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে।

পেশাগত স্বীকৃতির অভাব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংঘের এ নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংক বা পাসপোর্ট অফিসে ‘অভিনয়শিল্পী’ বলে পরিচয় দেওয়ার কোনো ক্ষেত্র নেই, বাধ্য হয়ে ‘আর্টিস্ট’ লিখতে হয়, যা রাষ্ট্রীয় অবজ্ঞারই পরিচায়ক। এ অবস্থার পরিবর্তনে আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেন। অন্যদিকে শিল্পীদের মধ্যে বেকারত্ব দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে জানান আজাদ আবুল কালাম। তাঁর ভাষায়, বর্তমানে মাত্র আট শতাংশ শিল্পী শুধু অভিনয়ের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন; বাকিরা দুর্বিষহ বা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উপস্থিত শিল্পীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, শুধু নিজের দিকে না তাকিয়ে চারপাশের সহশিল্পীদের প্রতিও নজর দিতে হবে। একে অপরের কষ্ট ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সেই পথ খুঁজে বের করার অনুরোধ করেন সভাপতি। পূর্বেকার গণ-আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এ নেতা বলেন, বর্তমান কমিটি একটি বড় আন্দোলনের পর গঠিত হয়, যা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রার অংশ। বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পীরা যেন নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলে দুঃখ-বেদনার কথা পরস্পরকে জানাতে পারেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপুসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত অন্যদের মধ্যে ছিলেন দিলারা জামান, খায়রুল আলম সবুজ, সারা যাকের, ফারুক আহমেদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, আজিজুল হাকিম, তৌকীর আহমেদ, আলী রাজ, সুব্রত, শিবা শানু, কচি খন্দকার, রওনক হাসান, আহসান হাবীব নাসিম প্রমুখ। সভায় বক্তব্যে সভাপতি আরও জানান, এ ধরনের আয়োজনেও তাঁকে সহকর্মীদের কাছ থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আকুতি শুনতে হয়, যা পরিস্থিতির করুণ চিত্র তুলে ধরে।