চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় কলা চুরির মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন স্থানীয় অ্যাডভোকেট ক্লার্কস সমিতির সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ জানায়, নিহতের পরিচয় মোহাম্মদ তোহার (৪৫)। তিনি উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডস্থিত মোনাফ হাজীর পাড়া নতুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ির গাছ থেকে কলা চুরি যাওয়ার বিষয়ে তোহার সন্দেহ হয় পাশের বাড়ির এজাহার মিয়ার পরিবারের প্রতি। এই চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বিবাদের সূত্রপাত হয়। পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ এর ভাষ্যমতে, তোহা রাস্তায় দাঁড়িয়ে এজাহার মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেনের কাছে কৈফিয়ত তলব করলে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। বিবাদের এক পর্যায়ে কিল-ঘুষি ও টর্চলাইটের আঘাতে তোহার প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। সত্যিকারের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে পুলিশ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রকাশ, ওই রাতে তোহার বাগান থেকে কলা খোয়া যাওয়ার পর তিনি প্রতিবেশীর গৃহে উপস্থিত হন এবং চুরি করা কলা উদ্ধারে বাড়ি তল্লাশির ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে করে উভয়পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ তীব্র আকার ধারণ করলে মারামারি বাঁধে। মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত তোহার অবস্থা অবনতি হলে দ্রুত পটিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক, যিনি রাতের বেলা কাজ সেরে ফেরার পথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, দাবি করেন যে সংঘর্ষ চলাকালীন তিনি তোহারকে সড়কে লুটিয়ে পড়তে দেখেন এবং আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন।

তোহামের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ সুমন অভিযোগ করেন যে কলা চুরির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন এবং এজাহার মিয়ার পরিবারের সদস্যরাই এই কাজটি করেছে। এই মৃত্যুর ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে (২৯) আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। ইতিমধ্যে এজাহার মিয়ার অপরাপর আত্মীয়স্বজনেরা পালিয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে।