আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বৃহস্পতিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে খালাস চাওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম এই আবেদন করেন। মামলার সাত আসামিই পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনাল তাঁদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী নিয়োগ করেছেন, যাদের একজন হাসান ইমাম।

ট্রাইব্যুনাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে হাসান ইমাম জানান, তাঁর তিন মক্কেলের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তিনি সঠিক নয় বলে মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং তাঁর মক্কেলরা সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছেন মাত্র। তাই কাদের, নাছিম ও আরাফাত কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে দায়ী নন।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড, গোলাগুলি বা মারামারির কোনো ঘটনায় তাঁর তিন মক্কেলের শারীরিক উপস্থিতি ছিল না এবং তাঁরা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না। ফলে যারা সহিংসতা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তাঁর মক্কেলদের নয়। এই যুক্তিতে তিনি তিন আসামির অব্যাহতি চেয়েছেন।

এদিকে, মামলার অপর চার পলাতক আসামি — যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ইসরাত জাহান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, তাঁর চার মক্কেল কোনো অপরাধে সরাসরি অংশ নেননি।

ইসরাত জাহান বলেন, নিখিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ আনা হলেও রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা কোনো ভিডিও বা প্রতিবেদনে তাকে অস্ত্র হাতে দেখা যায়নি। কোনো সাক্ষীও তার জবানবন্দিতে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তাঁর মক্কেলদের বিরুদ্ধে নির্দেশনা, উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের 'শেষ দেখে নেওয়ার' যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেটি প্রসঙ্গে ইসরাত জাহান ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন যে, এ কথা বলার অর্থ আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণে আনা, আন্দোলনকারীদের হত্যা করা নয়।