বাংলাদেশ অভিনয়শিল্পী সংঘের কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম বার্ষিকী ও সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইটের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নাট্যজন মামুনুর রশীদ শিল্পীদের নিরাপত্তা, ঐক্য এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদার জীবনের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। গত ১৪ জুলাই রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এই জমায়েত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রখ্যাত অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সংগঠনের উপদেষ্টা মামুনুর রশীদ উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখানে আসা অনেকের সঙ্গেই আমার অভিনয় এবং নির্দেশনার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমার কাছে সবাই আপন।’ তিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমরা বারবার বলে এসেছি, শিল্পীদের কোনো ধরনের বন্ধনীবদ্ধ করবেন না। কিন্তু কেউই তা আমলে নেয়নি। এখনো সেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।’ তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতেও বিভিন্ন সময়ে শিল্পীদের বিভাজিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। মামুনুর রশীদ জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এ ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে। নতুবা অভিনয়শিল্পীদের পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।’
আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সংগঠনের ওয়েবসাইটের উদ্বোধন। অভিনেতা মামুনুর রশীদ নিজেই এই ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সভায় সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন অভিনেতা শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠানে দিলারা জামান, খায়রুল আলম সবুজ, সারা যাকের, ফারুক আহমেদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, আজিজুল হাকিম, তৌকীর আহমেদ, আলী রাজ, সুব্রত, শিবা শানু, কচি খন্দকার, রাশেদ মামুন অপু, রওনক হাসান ও আহসান হাবীব নাসিমের মতো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পীদের আর্থিক ও মানবিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘যখন কোনো শিল্পী দুর্ঘটনায় পড়েন অথবা নিঃসঙ্গ বোধ করেন, তখন যদি সংগঠনের অন্তত দুইজন মানুষ তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা একে অপরের জন্য থাকতে পারি। এই চেতনা জাগানোর জন্য সংগঠনের পরিসর বাড়াতে হবে।’ করোনাকালীন সময়ে সংগঠনটি যেভাবে শিল্পীদের পাশে ছিল, সেই উদাহরণ দিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও সব ধরণের সংকটে শিল্পী ও কলাকুশলীদের পাশে সক্রিয় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘একজন শিল্পীর মনে বিশ্বাস জাগানোটাই বড় কাজ যে, যেকোনো বড় বিপদে একটি বড় সংগঠন তার পাশে এসে দাঁড়াবে। অভিনয়শিল্পী সংঘ সেভাবেই শিল্পীদের পাশে থাকবে।’
শিল্পীসমাজের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিল্পীদের মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে। কে কত বড় তারকা সেটি বড় নয়, বড় হলো সহশিল্পীকে আনন্দ, বেদনা ও উৎসবের দিনে স্মরণ করা।’ তিনি আরও দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘এটা শিল্পী সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। তাঁরা যদি জেলে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের থাকতে হবে।’ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফেরদৌসী মজুমদারের উপস্থিতিতে ও নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের মিলনমেলায় এ অনুষ্ঠানটি সংগঠনের ইতিতাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলো।



