ইরানের বিরুদ্ধে আসন্ন সপ্তাহান্তের মধ্যেই নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করাই এই হামলার লক্ষ্য।

এর কিছুক্ষণ আগে ইরানের সাথে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ট্রাম্প। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা জোরালো অভিযানের পূর্ববর্তী হুমকির পুনরাবৃত্তিও করেন তিনি। শুক্রবার এক মন্ত্রিসভা বৈঠক চলাকালে ট্রাম্প বলেন, "আমরা তাদের উপর কঠোর আঘাত হানবো। এবং কোনো এক সময় তারা বলতে বাধ্য হবে যে আমরা আর নিতে পারছি না।"

অন্যদিকে, সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার বিষয়টি বিবেচনা করছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা সামরিক অভিযানের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, বেসামরিক স্থাপনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। এই প্রতিবেদনের পর শুক্রবার বিকেলে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট আসন্ন আক্রমণের কোনো খবরে সরাসরি সায় দেননি। তবে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাকে অর্থপূর্ণ পথ বলে বিবেচনা করছেন, ইরান ততদিন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা সেই অর্থপূর্ণ আলোচনার টেবিলে না আসে।"

ট্রাম্প প্রায়শই ব্যাপক সামরিক আরোহনের হতুমকি দিয়ে থাকেন, তবে পরবর্তীতে প্রায়শই নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। ইতিমধ্যে চলমান এই সংঘাতে মার্কিন গোলাবরুদের মজুদ কমে এসেছে, বিশেষ করে ঘাঁটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রণস্ফরন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতের অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, যা তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার পরিবহনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।

সামরিক বিচারে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ না হলেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে তেহরান পুরো এলাকার বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করেছে। এ সপ্তাহেই মিশরের দামিয়েট্টা বন্দরে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী দুটি জাহাজ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি সংঘর্ষের ধাপে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে, ফলে খাদ্য ও আবাসন খরচে ইতিমধ্যে নাস্বস্তু মার্কিন নাগরিকদের জ্বালানির জন্যও এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে এই পরিস্থিতি। জনমত জরিপ বলছে, ট্রাম্পের যুদ্ধ ও অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভোটারদের বড় একটি অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করছে। শুক্রবার মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে রাষ্ট্রপতি পশ্চাৎপসরণ কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ট্রাম্প ইরানের সাথে আলোচনার প্রসঙ্গে বলেছিলেন, "আমি তাদের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাচ্ছি, কারণ তারা মিথ্যে বলে এবং ভুলভাবে তথ্য পরিবেশন করে।" তিনি যোগ করেন, "এবং কোনো এক পর্যায়ে তারা বলবে, 'আমরা আর সহতে পারছি না।'" দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছে বলে মনে হচ্ছে। ইরানের নেতৃত্বও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অভিযোগের প্রতিধ্বনি করে বলেছে, আমেরিকানরা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং তাদের বিশ্বাস করা যায় না।