বিনোদন জগতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় অক্ষয় কুমার। সম্পতি মুম্বাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেআয়োজিত এক আড্ডায় 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল' সিনেমার ভোজপুরি গানের প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে নিজের দীর্ঘ দিনের পেশাদার জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন এই তারকা। তিনি জানান, ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট জ্বর থাকার পরও মাত্র এক দিনের ভিতরেই ভোজপুরি গানটির শুটিং শেষ করেছিলেন।

ভোজপুরি অভিনয় শিল্পীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে অক্ষয় স্পষ্ট করেন, ‘আমি কোনোনো অভিনেতাকেই খাটো করে দেখি না এবং এমন মানসিকতা সমর্থনও করি না। একজন অভিনেতা মানেই অভিনেতা, সেটা যে কোনো ভাষার ছবির জন্যই হোক।' তিনি উল্লেখ করেন যে তার সিনেমার একটি জনপ্রিয় সংলাপ 'ভোজপুরি হলিউডের চেয়েও ভালো'—এই কথা তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেই বলেছেন।

বর্তমান সময়ে বহু তারকা সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রে অভিনয়ে নবী প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে অক্ষয় মত দেন, 'এটা নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়। সবারই নিজস্ব চিন্তাভাবনা কাজ করে। আমি মনে করি, প্রত্যেক ধরনের চলচিত্রেই অভিনয় করা দরকার।' তার দৃঢ় বক্তব্য, কোনো নির্দিষ্ট ছক বা সূত্র নেই যাতে বলা যাবে তারকাবহুল অথবা একক নায়ক নির্ভর ছবিই কেবল হিট হবে। সাফল্যের কোনো নির্দিষ্ট ফর্মুলা আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক চলচ্চিত্র ব্যবসায়িকভাবে সফল না হওয়ার প্রসঙ্গে বাজেটের গুরুত্বকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন অক্ষয়। তিনি স্মরণ করে বলেন, 'ছবি তৈরিতে বাজেটই সবচেয়ে বেশি ম্যাটার করে। প্রয়াত নির্মাতা যশ চোপড়ার কাছ থেকে আমি একটি শিক্ষা পেয়েছিলাম— “বাজেট হিট তো ছবি হিট”।' তার ব্যখ্যা অনুযায়ী, সঠিক বাজেট থাকলে পরিচালক বা চিত্রনাট্যকারের ত্রুটিটুকুও সামলে নেওয়া যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার সব সিনেমা নির্ধারিত ব্যয়ের মধ্যেই নির্মিত হয়েছে এবং এ নিয়ে তিনি সচেত থাকেন যে প্রযোজকের যেন কোনো লোকসান না হয়।

অক্ষ আরো উল্লেখ করেন, 'প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা এই ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা অত্যন্ত জরুরি।' 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল' ছবিটির ক্ষেত্রে তিনি পারিশ্রম হিসেবে একটি টাকাও নেননি, বরং তিনি নিজেই ছবিটিতে একজন বিনিয়োগকারীর ভূমিকায় ছিলেন। বহুশিল্পী উপস্থিতির পরও মাত্র ১১৫ কোটিরুপির পরিকল্পিত ব্যয়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান এই অভিনেতা। প্রত্যহ ২৪ জন অভিনেতার উপস্থিতিতে শুটিং হলেও সকলের সহযোগিতার মাধ্যমেই এটি সম্ভবপর হয়েছে।

কমিক অভিনয় বলিউডে যে যথাযথ মূল্যায়ণ পায় না, সেই বিষয়ে নিজের মতামতে অক্ষ অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি বলেন, 'জনি লিভারের মতো শিল্পীকে যেমন প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি, অথচ তিনিই কৌতুক অভিনয়ের মেরুদণ্ড।' তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আবেগীয় দৃশ্যের মাধ্যমে দর্শককে কাঁদানো তুলনামূলক সহজ, কিন্তু কাউকে সত্যিকারার্থে হাসাতে পারে- এমন কাজের পেছনে অনেক বেশি শ্রম দিতে হয়।

বর্তমান চলচ্চিত্রে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মাত্রা নিয়ে বলতে গিয়ে অক্ষা কুমার জানান, ‘এটি সম্পূর্ণরূপে ছবির গল্প এবং পরিচালকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে।' ব্যক্তিগতভাবে তিনি অহেতুক রক্তপাত ও বীভৎসতাহীন পরিবেশে কাজ করতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্য পান। ছবি ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি একটি দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করে বলেন, 'জীবনে উঠত-পতন থাকবেই। একটা সময়জ্ঞাপক উক্তি মনে রাখি, ঝড়ের সময় মাথা নিচু করে থাকতে হয়। ঝড় যখন চলে যায়, তারপরেও বিনম্র থাকাই উত্তম।'

অভিনেতা নিজের দীর্ঘ ৩৬টি বছর একই রকম শক্তি ও গতিতে কাজ করে যাওয়ার পেছনের গোপন সূত্রটি উদঘাটন করে বলেন, 'এটি এখন আমার স্বভাতে পরিণত হয়েছে। প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে কাজের জন্য বেরিয়ে পড়া—এই অভ্যাস আমি আমার বাবার কাছ থেকে পেয়েছি।' তার পিতাকে বহু বছর ধরে নিয়ম করে ভোরের কাজে যেতে এবং সন্ধ্যার বাড়ি ফিরতে দেখেছেন, সর্বদা তার অনুরূপ হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি। এই একই অনুশীলনের জন্যই তিনি এক বছরে চারটি চলচ্চিত্রেও কাজ করতে সক্ষম হন।

সবশেষে, তার পরিচিত 'খিলাড়ি' ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও ব্যাক্ত করেন অক্ষ। তিনি এই সিরিজের শেষ কিস্তি তৈরির প্রবল ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতের ছবিটির নাম হবে 'আখেরি খিলাড়ি', এখন অপেক্ষা একটিরচিত চিত্রনাট্যের।