কানাডার এডমন্টন ম্যারাথনের ২০২৬ সংস্করণের পথ পরিমাপে বড় ধরনের ভুল হয়েছে। দৌড়ের নির্ধারিত দূরত্বের চেয়ে পথটি ৬৭৪ মিটার বেশি লম্বা ছিল বলে স্বীকার করেছেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ। অর্ধ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই পথের কারণে অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদদের চূড়ান্ত সময়ে অস্বাভাবিক প্রভাব পড়েছে।
সংগঠকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিমাপের সময় ঘটে যাওয়া একটি ত্রুটির কারণেই এই অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে। ফলে যারা ২০২৬ সালের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে যারা ব্যক্তিগত সেরা সময় অর্জনের লক্ষ্যে দৌড়েছিলেন, তারা প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি। ম্যারাথনের আনুষ্ঠানিক দূরত্ব ৪২.১৯৫ কিলোমিটার হলেও এ বছর দৌড়বিদদের প্রকৃত অতিক্রান্ত দূরত্ব ছিল আরও বেশি।
এডমন্টন ম্যারাথনের আয়োজকরা এই ভুলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন পরিমাপ পদ্ধতিতে এই ত্রুটি ধরা পড়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে সমাপ্ত এই আসরের ফলাফল সংশোধনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস সংস্থার নিয়মাবলির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত বড় কোনো প্রতিযোগিতার পথ পরিমাপে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এ বছর সেই মানদণ্ড থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
দৌড়বিদদের মধ্যে যারা নতুন রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের জন্য এই ঘটনা হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় অ্যাথলেটিকস সমিতির একাধিক সদস্য। তবে আয়োজকদের এই স্বীকৃতিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন অনেকে, কারণ এতে ভবিষ্যতে পথ পরিমাপে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা পাবে আয়োজকরা।
এডমন্টন ম্যারাথন প্রতি বছর দেশ-বিদেশের হাজারো দৌড়বিদকে আকর্ষণ করে। এই আসরের ভুলটি যদিও দুর্ভাগ্যজনক, তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখায় সংগঠকদের ভূমিকার প্রশংসাও করছেন কেউ কেউ। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী আসরে এই ত্রুটি সংশোধন করে তারা কীভাবে অংশগ্রহণকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনে।




