ইতালির বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে দায়িত্বে থাকা নিয়ে ভাববেন। তবে ফাইনালজুড়ে দলের পারফরম্যান্স ও কৌশল নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের অর্ধে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম। বল দখল ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণেও হতশ্রী ছিল দল। স্পেনের অর্ধে মাত্র ৩৭টি টাচ করেছে তারা, অথচ ফিজিক্যাল ফুটবলে পরিচিত প্যারাগুয়েরও প্রতিপক্ষের অর্ধে টাচ ছিল এর চেয়ে বেশি।ফাইনালের একাদশ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালের সফল একাদশে পরিবর্তন এনে নিকো গঞ্জালেজ ও রদ্রিগো দি পলকে সুযোগ দেন স্কালোনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে গঞ্জালেজকে তুলে নিয়ে নিজের ভুল শুধরে নিলেও দি পলের ফর্মহীনতা স্পষ্ট ছিল। ৭০ মিনিটে তাকেও বদলি করা হয়। এদিকে সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করা ফর্মে থাকা লাওতারো মার্তিনেজকে ফাইনালে মাঠেই নামানো হয়নি, যা নিয়ে বিস্ময় কাটেনি।পুরো আসরে উদীয়মান প্রতিভাদের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিরি আ’র সেরা খেলোয়াড় ও কোমোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তোলা নিকো পাজ পেয়েছেন মাত্র ৭২ মিনিট, যার অধিকাংশ জর্ডানের বিপক্ষে গুরুত্বহীন ম্যাচে। ফরাসি লিগের আলোড়ন সৃষ্টিকারী ভ্যালেন্টিন বার্কোও সুযোগ পাননি তেমন। অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলার ইউরোপা লিগজয়ী এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লে চেলসোর মতো ইন-ফর্ম খেলোয়াড়দের দলে রাখেননি স্কালোনি।কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের পর দলের খোলনলচে বদলে তরুণ এনজো ফার্নান্দেজ ও হুলিয়ান আলভারেজকে সুযোগ দিয়েছিলেন স্কালোনি। কিন্তু এবার তিনি পুরনো চেনা ছক থেকে সরেননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথমার্ধের দুর্দান্ত ফুটবলের ছিটেফোঁটাও এই আর্জেন্টিনার খেলায় দেখা যায়নি। সাবেক উইঙ্গার আনহেল দি মারিয়ার অনুপস্থিতি আক্রমণে প্রভাব ফেললেও কৌশলগত ব্যর্থতাই মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।এমন নানা প্রশ্নের মাঝেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববেন বলে জানিয়েছেন স্কালোনি। তবে তাঁর অধীনে এই বিশ্বকাপ অভিযানের পর পুনর্মূল্যায়ন অনিবার্য বলেই মনে করছে ফুটবল মহল।
প্রশ্নের মুখে স্কালোনি, বিশ্বকাপ হারের পর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফাইনালে দলের ব্যর্থতা, একাদশ নির্বাচন এবং উদীয়মান প্রতিভাদের ব্যবহার নিয়েও কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।




