দুবাইয়ে ২৮ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে নারী ক্রিকেটের এশিয়া কাপের নতুন আসর। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে ১৩ সেপ্টেম্বর। এবার একই গ্রুপে রাখা হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানকে; গ্রুপ পর্বেই ৫ সেপ্টেম্বর দুই দলের মধ্যে লড়াই হবে। শুধু ফাইনালেই আবার তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকবে।
বর্তমানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপাধারী ভারতীয় নারী দল এশিয়া কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল। সাতবার ট্রফি জিতেছে তারা এবং অংশ নেওয়া নয়টি আসরের প্রতিটিতেই ফাইনালে পৌঁছেছে। বিপরীতে পাকিস্তান এখনো এই টুর্নামেন্টে শিরোপা জয় করতে পারেনি; কেবল ২০১২ ও ২০১৬ সালে ফাইনালে উঠেছিল দলটি। এবার পাকিস্তানের গ্রুপে তুলনামূলক কম শক্তিশালী থাইল্যান্ড ও হংকং থাকায় তাদের সেমিফাইনালে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে একটি পুরনো বিতর্কের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ফাইনালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে ভারতীয় দলের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। গত বছরের ছেলেদের এশিয়া কাপেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। দুবাইয়ে পাকিস্তানকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেটাররা নাকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। সেই সময় দীর্ঘক্ষণ স্থগিত থাকে পুরস্কার বিতরণীর অনুষ্ঠান; অবশেষে নাকভি ট্রফি নিয়ে মাঠ ত্যাগ করেন। এক বছরের বেশি সময় অতিক্রম করলেও ওই ট্রফি নিয়ে বিরোধের সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয়নি এবং ভারত এখনও সেটি পায়নি।
পরবর্তীতে বিসিসিআই উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করে। সংস্থার সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া নাকভির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেই আলোচনার পর তিনি মন্তব্য করেন যে দুই পক্ষের মধ্যে ‘বরফ গলেছে’। তবুও ট্রফি হস্তান্তর সংক্রান্ত জটিলতা দূর হয়নি। নাকভি পরে জানান, ভারতীয় দল চাইলে দুবাইয়ে এসিসির কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে ট্রফি সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু সেই প্রস্তাবও সমস্যার সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর ভারতীয় দলের পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নাকভি বারবার সমালোচনা করেছিলেন। সাম্প্রতিককালে ভারতীয় নারী দলও পাকিস্তানের মেয়েদের সঙ্গে করমর্দন করছে না। এশিয়া কাপেও একই আচরণ হতে পারে। যদি হারমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল ফাইনালে উঠে শিরোপা জয় করে, তাহলে গত বছরের ঘটনার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টের মাঠের বাইরের ঘটনাগুলোও দর্শকদের নজর কাড়তে পারে। এ বিষয়ে বিসিসিআই এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ফলে নাকভি মঞ্চে উপস্থিত থাকলে ভারতীয় দল তাঁর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।




