মেজর লিগ বেসবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পিচার হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন টমি জন। ২৬ মৌসুমের পেশাদার ক্যারিয়ারে ২৮৮টি জয় ও চারবার অল-স্টার নির্বাচিত এই কিংবদন্তি শনিবার ফ্লোরিডার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী চেরিল এবং অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা পাশে ছিলেন।

১৯৭৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের হয়ে খেলার সময় কনুইয়ের গুরুতর চোটে পড়েন টমি জন। সেই সময় ডা. ফ্র্যাংক জোবের নেতৃত্বে একটি যুগান্তকারী অস্ত্রোপচার করা হয়, যা চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। সেই অস্ত্রোপচারই পরে 'টমি জন সার্জারি' নামে পরিচিতি পায় এবং ক্রীড়া ইতিহাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই তিনি মাঠে ফিরে অসংখ্য অল-স্টার নির্বাচন ও ওয়ার্ল্ড সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করেন।

১৯৭৪ সালের সেই অস্ত্রোপচারের পর থেকে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার পিচার নিজেদের কনুইয়ের জটিল চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন এই পদ্ধতির কল্যাণে। বর্তমান যুগের অনেক শীর্ষস্থানীয় পিচারও এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিজেদের ক্যারিয়ার বাঁচিয়েছেন। শুধু খেলোয়াড়ি জীবনেই নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ক্রীড়াজগতে তার অবদান চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।

মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে হসপিসে থাকাকালীন তিনি ভক্তদের উদ্দেশে একটি আবেগঘন বার্তা পাঠান। ইয়াঙ্কিজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকাশিত সেই বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, “ডা. জোবেকে ধন্যবাদ, যিনি আমার হাত বাঁচিয়েছেন এবং আমাকে আবার পিচিং করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই অস্ত্রোপচার পরবর্তীকালে অগণিত পিচারের ক্যারিয়ার বাঁচিয়েছে, যাদের মধ্যে আজকের খেলার অনেক সেরা খেলোয়াড়ও রয়েছেন।”

ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, “২৬ বছর ধরে যারা আমাকে এবং আমার সতীর্থদের সমর্থন করেছেন, সেই সব ভক্তদের ধন্যবাদ। আমি আপনাদের কখনো ভুলব না।” এই বার্তাটি প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যে তার মৃত্যু সংবাদে ক্রীড়ামোদীদের মনে দাগ কেটেছে।

তার এজেন্ট মাইক ম্যাগুয়ার জানান, ফ্লোরিডার বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যু হয়েছে টমি জনের। ডজার্সের সাথে তার সম্পর্ক ছিল দীর্ঘ ও গভীর। লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন একজন ফ্রন্টলাইন পিচার হিসেবে, এবং সেখানেই সেই ঐতিহাসিক অস্ত্রোপচারটি হয়েছিল। যদিও ইয়াঙ্কিজের হয়ে খেলার সময় তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান, তবুও ডজার্স ভক্তদের কাছে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন সেই ইনজুরির কারণে, যা শেষ পর্যন্ত পুরো খেলাটিকেই বদলে দেয়।

মৃত্যুকালে তিনি ৮৩ বছর বয়সে পৌঁছেছিলেন। তার পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি ছয়টি ভিন্ন সংগঠনের হয়ে খেলেছেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বেসবল বিশ্বে। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পরও তার নামটি বেসবলের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে টমি জন সার্জারির মাধ্যমে, যা আজও প্রতিটি পিচারের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।