রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিল থেকে তুলে আনা এই ফরোয়ার্ড ধীরে ধীরে নিজেকে বিশ্বসেরাদের কাতারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শুরুতে সংগ্রাম করলেও বর্তমানে যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য তিনি বড় হুমকি। কিন্তু কেন তিনি নিজের দীর্ঘদিনের ক্লাব ছাড়ার কথা ভাবছেন?

গত ছয় বছরে ভিনিসিয়ুস নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদকে তিনি দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন, যার ফাইনালে তাঁর গোল ছিল অমূল্য। ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় স্থান, ফিফা বেস্ট অ্যাওয়ার্ড—এসব অর্জন তাঁর ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দিয়েছে। তবে ফুটবলারদের জীবন তো কেবল অর্জনের তালিকা নয়। ভিনিসিয়ুসের রিয়ালের সঙ্গে বন্ধন শৈশব থেকে শুরু হলেও সব সম্পর্কেরই শেষ আছে।

নতুন রিয়াল মাদ্রিদের উত্থান ও দলের ভেতরের পরিবর্তনই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। করিম বেনজেমা বিদায় নেওয়ার পর ভিনিসিয়ুসকে কেন্দ্র করেই দল সাজানো হচ্ছিল। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁর উপর নির্ভর করতেন আক্রমণভাগ গড়তে। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পে যোগ দেওয়ার পর সেই কৌশলে পরিবর্তন আসে। দুই বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। ভিনিসিয়ুস ও এমবাপ্পে দুজনই দলের মুখ হতে চান, যা দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়।

আনচেলত্তি চলে যাওয়ার পর জাবি আলোনসো কোচের দায়িত্ব নেন। তাঁর অধীনে এমবাপ্পেকে ভিনিসিয়ুসের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হতে থাকে। ফর্মে থাকা ভিনিকে ৭০ মিনিটের মধ্যে বদলি করে আনা হতো, অন্যদিকে এমবাপ্পে ফর্মহীন অবস্থায় পুরো ম্যাচ খেলতেন। এল ক্লাসিকোতে ভিনিকে বদলি করাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিতর্ক। এরপর দলের ফর্মও খারাপ হতে থাকে। জানুয়ারিতে জাবি বরখাস্ত হন এবং আলভেরো আরবেলোয়া দায়িত্ব নেন। তিনি ভিনির উপর বেশি ভরসা দেখান। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে দলকে তোলেন। কিন্তু এমবাপ্পে ফিরে আসার পর দলের ছন্দ নষ্ট হয়। মৌসুম শেষে আরবেলোয়া চলে যান এবং জোসে মোরিনহো দায়িত্ব নেন। মোরিনহো এখনো দলকে পুরোপুরি বুঝে ওঠেননি, তবে ভিনি-এমবাপ্পে দ্বন্দ্ব সামলানো তার জন্য নতুন নয়।

ভিনিসিয়ুসের চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর বাকি। জানুয়ারি থেকে তিনি নতুন ক্লাবের সাথে কথা বলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে বিনা মূল্যে হারাতে পারে। ক্লাব চায় তাঁকে ধরে রাখতে, কিন্তু চুক্তি নবায়নের শর্তে বেতন বৃদ্ধি জড়িত। ভিনি দাবি করেছেন এমবাপ্পের সমান বেতন। বর্তমানে তিনি ১৫ মিলিয়ন ইউরো পান, যা এমবাপ্পে ও আলাবার চেয়ে কম। রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি নন। এই আর্থিক অসামঞ্জস্যই ভিনিকে অন্য ক্লাবে যেতে উৎসাহিত করছে।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনাল ভিনিকে দলে ভেড়ানোর জন্য এগিয়ে এসেছে। আর্সেনাল ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে রানার্সআপ হয়েছে। তাদের কাছে খরচ করার মতো যথেষ্ট অর্থ রয়েছে। দলের আক্রমণভাগে একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। ভিনির সেই সক্ষমতা আছে। আর্সেনালের প্রকল্প তাঁকে কেন্দ্র করেই গড়া হবে, ফলে তিনি দলের প্রধান তারকা হবেন। এছাড়া ইংল্যান্ডে বর্ণবাদের সম্ভাবনা কম, যেখানে স্পেনে তিনি প্রায়ই এর শিকার হন। আর্সেনাল ভিনিকে সমর্থন করেছিল যখন স্পেনে তাঁর নাচ নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল।

এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব না এলেও গুঞ্জন রয়েছে ভিনির জন্য আর্সেনাল দলবদলের নিজস্ব রেকর্ড ভাঙতে পারে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম টেলিফুটবলের দাবি, আর্সেনাল তাঁকে সর্বোচ্চ বেতন দেওয়ার কথা ভাবছে। তবে ভিনিকে ফ্রিতে পেতে আরও এক মৌসুম অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে স্কাইস্পোর্টস জানিয়েছে, ভিনি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ফুটবলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।