রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ প্রদান করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুনানিতে আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার বলেন, আসামিরা পিস্তল উঁচিয়ে ডিআরইউর সভাপতিকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশের তদন্তে পিস্তল প্রদর্শন, চায়ের দোকান ভাঙচুর ও চুরির বিষয়গুলো উঠে আসেনি। অধিকন্তু, পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন থেকে তিন আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছে। বাদীকে মামলার তদন্তের কোনো অগ্রগতি বা ফলাফল জানানো হয়নি, এমনকি প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ বা কোনো আলামত জব্দ করা হয়নি। ফলে পুলিশের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ, তাই মামলাটির অধিকতর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। এ জন্য আসামিরা আদালতে হাজিরা দেন এবং তাঁদের উপস্থিতিতেই শুনানি শুরু হয়। এ সময় মামলার বাদী সোলাইমান হোসাইন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২১ মে রাতে ডিআরইউতে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাকির হোসেন, বিউটি খাতুন, আদর আক্তার, উদয় হাসান, হৃদয়, অন্তরা, ইমু, রানা, কামাল, রতনসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ৫০ জন এই হামলায় অংশ নেন। এ সময় ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন, তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, সদস্য মশিউর রহমান, মাহবুব হাসান, দেলোয়ার মহিন, মফিজুল সাদিকসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলার পরদিন ২২ মে বিকেলে ডিআরইউর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোলাইমান হোসাইন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে শাহবাগ থানা-পুলিশ তিন আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে এবং সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।